স্লটার হাউস থেকে সার্টিফিকেট—পশু জবাইয়ে আর চলবে না মনমর্জি! কড়া শাস্তির বিধান আনল নতুন সরকার

বাংলার মসনদে বসার পর এবার রাজ্যের গবাদি পশু জবাই নিয়ন্ত্রণে বড়সড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন ‘গেরুয়া সরকার’। এখন থেকে রাজ্যে বলদ, ষাঁড়, গরু, বাছুর বা মহিষ (স্ত্রী ও পুরুষ উভয়ই) জবাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অবৈধ উপায়ে পশু জবাই রুখতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নতুন নিয়ম কী বলছে?
রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি চাইলেই আর গবাদি পশু জবাই করতে পারবেন না। এর জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘ফিট ফর স্লটার’ বা জবাইয়ের উপযুক্ত হওয়ার সার্টিফিকেট নিতে হবে। এই সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে যৌথভাবে দু’টি পক্ষের হাতে:

পুরসভার চেয়ারম্যান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।

সরকারি ভেটেরিনারি সার্জন।

সার্টিফিকেট পাওয়ার শর্তাবলী
কাকে জবাই করা যাবে আর কাকে যাবে না, তার জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড ঠিক করে দিয়েছে প্রশাসন। লিখিতভাবে জানানো হয়েছে যে, কেবল সেই সব পশুই জবাই করা যাবে যেগুলি:
১. কাজ বা প্রজননের ক্ষমতার বাইরে অর্থাৎ ১৪ বছরের বেশি বয়সী।
২. বয়স, গুরুতর আঘাত, বিকৃতি বা কোনও অসাধ্য রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে।

যদি কোনও কারণে কেউ সার্টিফিকেট না পান, তবে আবেদনকারী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

খোলা জায়গায় জবাই নিষিদ্ধ
নতুন আইনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শংসাপত্র পেলেও যেখানে সেখানে পশু জবাই করা যাবে না। শুধুমাত্র পুরসভার স্লটার হাউস বা স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত জায়গাতেই এই কাজ করা যাবে। জনসমক্ষে বা খোলা জায়গায় পশু জবাই এখন থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া, সরকারি আধিকারিক বা সার্জনরা যখন পরিদর্শনে যাবেন, তাঁদের কাজে বাধা দেওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কঠোর শাস্তি ও আইনি পদক্ষেপ
আইন ভঙ্গকারীদের জন্য কড়া শাস্তির বিধান রেখেছে শুভেন্দু সরকার। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:

আইন লঙ্ঘন করলে ৬ মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে।

জরিমানা হিসেবে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হতে পারে।

অথবা জেল ও জরিমানা উভয় দণ্ডই কার্যকর হতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই আইনের অধীনে সমস্ত অপরাধকে ‘কগনিজেবল’ বা আমলযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ অভিযুক্তকে সরাসরি গ্রেপ্তার করতে পারবে।

সরকারের লক্ষ্য
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গবাদি পশুর অবৈধ পাচার ও জবাই রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য এবং পশুর অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিপূর্বেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা প্রশাসনকে এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে প্রশাসনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।