সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে ‘অ্যাকশন’ মুডে শুভেন্দু সরকার! আজই চূড়ান্ত হচ্ছে বিএসএফ-এর জমির ব্লু-প্রিন্ট

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কোনওরকম আপস করা হবে না— এই বার্তাকে সামনে রেখে এবার দ্রুত পদক্ষেপ শুরু করল নতুন সরকার। আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে বিএসএফ-কে (BSF) কাঁটাতারের বেড়া বা ফেন্সিং দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করল নবান্ন।
আজই ভার্চুয়াল বৈঠক: নজরে সীমান্তবর্তী জেলা
সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে আজ, বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে রাজ্য প্রশাসন। দুপুর ১২টা থেকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের সচিব। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসক এবং বিএলআরও-রা (BLRO)।
সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকেই জমি হস্তান্তরের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে। মূলত কোন কোন জেলায় বিএসএফ-কে কতখানি জমি ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং কোথায় কোথায় জমি দেওয়া এখনও বাকি আছে, তার বিস্তারিত খতিয়ান নেওয়া হবে এই বৈঠকে।
৪৫ দিনের কড়া সময়সীমা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত সপ্তাহেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সীমান্ত এলাকায় ফেন্সিং বা কাঁটাতারের কাজ যাতে জমি জটের কারণে আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আজকের পর্যালোচনা বৈঠকে সেই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখেই আধিকারিকদের বিশেষ টাস্ক দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
কেন এই বাড়তি তৎপরতা?
রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার কাজ থমকে ছিল জমি সমস্যার কারণে। বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হলেও আগের জমানায় সেই প্রক্রিয়া আশানুরূপ গতি পায়নি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরেই শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অনুপ্রবেশ ও পাচার রুখতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গড়ে তোলাই এখন নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কয়েক গুণ গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ফেন্সিং দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ হলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারাও সুরক্ষিত থাকবেন।