IAS-IPS-দের জন্য কড়া ফতোয়া! শিরদাঁড়া সোজা রেখে কাজ করার নির্দেশ নয়া সরকারের

বাংলার প্রশাসনিক অলিন্দে বইছে পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়া। শপথ নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া মেজাজে ধরা দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন সচিবালয়ে আমলাদের শিরদাঁড়া শক্ত করে কাজ করার পাঠ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, ঠিক তখনই কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে শুরু হয়ে গেল বড়সড় রদবদলের প্রস্তুতি।
পুলিশকে কড়া বার্তা সিপির
কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দা সম্প্রতি
শহরের সমস্ত জয়েন্ট সিপি, ডিসি এবং ওসিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী হিংসা দমনে কোনো প্রকার আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। লালবাজারের নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এফআইআর (FIR) দায়ের করার ক্ষেত্রে কোনো গড়িমসি বরদাস্ত করা হবে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শহরকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক মুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিশেষত নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি থাকবে তালিকার শীর্ষে।
নজরে শব্দদূষণ ও ট্রাফিক আইন
শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাতেও আমূল বদল আনার ইঙ্গিত মিলেছে। এবার থেকে হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো রুখতে প্রতিদিন চলবে বিশেষ তল্লাশি অভিযান বা ‘স্পেশাল ড্রাইভ’। পাশাপাশি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও বেনজির কড়াকড়ি শুরু হচ্ছে। সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে কোনো অবস্থাতেই লাউড স্পিকার বাজানো যাবে না—এমনকি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের কাজের খতিয়ান এবং উদ্ধার হওয়া অবৈধ সামগ্রীর রিপোর্ট নিয়মিত জমা দিতে হবে শীর্ষ মহলে।
শিরদাঁড়া সোজা রাখার পরামর্শ
উল্লেখ্য, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের অভয় দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “মাথা উঁচু করে কাজ করুন, ভয় পাবেন না। আলাদা করে কোনো ‘অনুপ্রেরণা’র প্রয়োজন নেই।” মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই সুর মিলিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। আইএএস (IAS) অফিসারদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন, কাজ করলে শিরদাঁড়া বাঁকাতে হয় না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার আসার পর প্রশাসনের উপর তলা থেকে বারেবারে নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করার যে বার্তা আসছে, তা নজিরবিহীন। দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের তকমা ঝেড়ে ফেলে পুলিশ প্রশাসন কতটা জনমুখী হয়ে উঠতে পারে, এখন সেটাই দেখার।