টলিউড ট্র্যাজেডির জের? মেয়াদ ফুরনোর আগেই মহিলা কমিশনের পদ ছাড়লেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়!

বিনোদন জগৎ থেকে প্রশাসনিক অলিন্দ—সবখানেই এখন চর্চায় একটিই নাম, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মাস আগেই রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। গত শুক্রবারই নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ‘ইষ্টি কুটুম’, ‘জল নূপুর’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিয়ালের এই স্রষ্টা। তবে ইস্তফা দিলেও এখনও কমিশনের তরফে কোনো চূড়ান্ত প্রত্যুত্তর পাননি বলেই জানিয়েছেন তিনি।

বৈঠকের ডাক ও বর্তমান পরিস্থিতি
আজ বুধবার রাজ্য মহিলা কমিশনের দফতরে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও আজ দফতরে সশরীরে হাজির থাকবেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত পেশাদার ভঙ্গিতে জানান, “ওটা আমার কাজের জায়গা। সেটা এখনও অতীত হয়ে যায়নি।” খুব শীঘ্রই তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

কেন এই আকস্মিক বিদায়?
নিয়ম অনুযায়ী, মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদে একজন ব্যক্তি টানা সর্বোচ্চ ৯ বছর থাকতে পারেন। সেই হিসেবে আগামী জুলাই মাসেই তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এই পদত্যাগ ঘিরে দানা বাঁধছে নানা বিতর্ক। উল্লেখ্য, সম্প্রতি টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েন লীনা। শুটিং সেটে সুরক্ষাবিধি না মানার অভিযোগে তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর বিরুদ্ধে সরব হন শিল্পীদের একাংশ।

বিপাকে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’
রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করেছে আর্টিস্ট ফোরাম। ওড়িশার তালসারি থানায় গিয়েও লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। এই মুহূর্তে কোনো অভিনেতা বা টেকনিশিয়ান তাঁদের সংস্থার সাথে কাজ করছেন না। এমনকি এই বিতর্কের জেরে বেশ কিছু জনপ্রিয় সিরিয়াল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, আর বাকিগুলোর দায়িত্ব সরাসরি চ্যানেলের হাতে চলে গিয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এত বড় বিপর্যয়ের মধ্যেও অবশ্য দমে যেতে রাজি নন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, তিনি কাজের মধ্যেই আছেন। স্বমহিমায় ফিরে আসার আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়েছে তাঁর গলায়। তাঁর কথায়, “কাজ থেকে কখনও দূরে সরে থাকিনি এবং আগামীতেও থাকব না।” তবে প্রশাসনিক পদ থেকে সরে আসার পর টলিপাড়ার এই জটিল সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।