সংসার বাঁচাতে এবার ‘দুর্গা’ অবতার! উলুবেড়িয়ায় নেশার ঠেকে তাণ্ডব মহিলাদের, থরহরিকম্প কারবারিরা

রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নির্ভয়ে কাজ করার বার্তা কি তবে মহিলারা হাতে-কলমে পালন করা শুরু করলেন? মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উলুবেড়িয়ার কালীনগর এলাকার দৃশ্য অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা চোলাই, জুয়া এবং গাঁজার রমরমা কারবার বন্ধ করতে এবার লাঠি হাতে রাস্তায় নামলেন এলাকার শয়ে শয়ে মহিলা। শুধু মুখে বলা নয়, রীতিমতো ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলো অসামাজিক কাজের ঠেকগুলিতে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
দীর্ঘদিন ধরেই উলুবেড়িয়া থানার অন্তর্গত কালীনগর এবং পশ্চিম কালীনগর এলাকায় রমরমিয়ে চলছিল চোলাই মদের ব্যবসা। অভিযোগ, এই নেশার কারবারকে কেন্দ্র করে এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছিল, যার ফলে নষ্ট হচ্ছিল সামাজিক পরিবেশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে স্থানীয় মহিলাদের। মন্ত্রীর দেওয়া সাহসকে পাথেয় করে জোটবদ্ধ হন তাঁরা। হাতে লাঠি নিয়ে সোজাসুজি হানা দেন চোলাই ব্যবসায়ীদের ডেরায়।
তীব্র আক্রোশ ও অভিযান:
এলাকার প্রমীলা বাহিনী কেবল প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত থাকেনি। ব্যবসায়ীদের বাড়িতে মজুত রাখা চোলাইয়ের ড্রাম ও বোতল লাথি মেরে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। এরপর বেশ কিছু চোলাইয়ের ঠেকে অগ্নিসংযোগ করেন উত্তেজিত মহিলারা। তাঁদের সাফ কথা, “ঘরের পুরুষরা নেশা করে এসে স্ত্রীদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। ছোট ছোট শিশুরাও মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এই বিষ সমাজ থেকে উপড়ে ফেলতেই আমরা পথে নেমেছি।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
বিক্ষোভকারী মহিলাদের নিশানায় রয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও। তাঁদের অভিযোগ, উলুবেড়িয়া থানার নাকের ডগায় এই বিশাল কারবার চললেও পুলিশ এতদিন হাত গুটিয়ে বসে ছিল। কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। মহিলারা কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছেন, আজ কেবল সতর্ক করা হলো। এরপরেও যদি চোলাই বা গাঁজার কারবার বন্ধ না হয়, তবে আগামী দিনে আরও বড় প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে কারবারিদের।
কালীনগরের এই ঘটনা বর্তমানে মহকুমা জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন এখন এই ঘটনার পর কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার।