হোরমুজে তেলের নাড়ি কাটছে ইরান! আসরে নামল ইউক্রেনীয় ‘ঘাতক’ রোবট, যুদ্ধক্ষেত্রে এবার কি উলটপুরাণ?

বিশ্ব রাজনীতির দাবা খেলা এবার এক অভাবনীয় মোড় নিল। হোরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হল ইউক্রেন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি এবার সুপারপাওয়ার আমেরিকাকে সামরিক সাহায্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৃষ্ণ সাগরে যে সস্তা ড্রোন ও রোবট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউক্রেন সাফল্য পেয়েছিল, এবার সেই একই অস্ত্র দিয়ে ইরানের ‘অবরোধ’ ভাঙার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন।

হোরমুজ প্রণালী: কেন কাঁপছে বিশ্ব?
পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার এই হোরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই পথ দিয়ে যেতে হলে তেহরানকে মাশুল দিতে হবে। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে জট না কাটলে এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে কোণঠাসা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান। আমেরিকার জন্য এটি কেবল কৌশলগত হার নয়, বরং জ্বালানি সংকটের অশনি সংকেত।

আমেরিকার তুরুপের তাস ইউক্রেনীয় ড্রোন
সিবিএস নিউজ (CBS News)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের সঙ্গে ইউক্রেনের একটি মেগা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইউক্রেন তাদের তৈরি স্বল্পমূল্যের ড্রোন এবং বিশেষায়িত রোবট ওয়াশিংটনে পাঠাবে। কেন এই ড্রোনগুলো গেম-চেঞ্জার হতে পারে?

খরচ বাঁচানো: কোটি কোটি ডলারের মিসাইল খরচ না করে মাত্র কয়েক হাজার ডলারের সস্তা ড্রোন দিয়ে ইরানের গতিবিধি রুখে দেওয়া সম্ভব।

অবরোধ ভাঙার অভিজ্ঞতা: ২০২২ সালে রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরীয় অবরোধ ইউক্রেন এই সস্তা ড্রোন দিয়েই ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। এখন রুশ জাহাজের জন্য যে পথ বিপজ্জনক, সেই একই কৌশলে হোরমুজ উন্মুক্ত করতে চায় আমেরিকা।

ইরানি শাহেদ-এর পাল্টা: রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। ফলে ইরানি ড্রোন কীভাবে ধ্বংস করতে হয়, তার সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে ইউক্রেনেরই।

স্থল অভিযানে রোবটের দাপট
আমেরিকার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের মতে, হোরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে, যা আমেরিকার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকি এড়াতেই ইউক্রেন দিচ্ছে ‘স্বল্পমূল্যের রোবট’। এই রোবটগুলো ব্যবহার করে কোনও সেনার প্রাণহানি ছাড়াই তেহরানের বিরুদ্ধে সফল স্থল অভিযান চালানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

কোণঠাসা তেহরান?
ইরানের সবথেকে বড় শক্তি হল হোরমুজের ভৌগোলিক অবস্থান। কিন্তু ইউক্রেনের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা আমেরিকার হাতে আসায় সেই দাপট অনেকটাই ফিকে হতে পারে। ফার্স নিউজ এজেন্সির মতে, ইরান হোরমুজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চেয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছিল, আমেরিকা তা খারিজ করে দেওয়ায় সংঘাত এখন অনিবার্য। ইউক্রেনের এই ‘স্মার্ট’ সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশল কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।