বাংলায় নতুন সূর্যোদয়! মমতা-গড় থেকেই বিধায়ক পদে শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, কী ঘটল বিধানসভায়?

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচিত হল এক নতুন অধ্যায়। ৯ মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, এবার বিধানসভার সদস্য হিসেবেও আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় শপথ বাক্য পাঠ করেন তিনি। এ দিন তাঁকে শপথ পাঠ করান বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।
মমতা-গড়ে ফুটল পদ্ম, শপথ ভবানীপুর থেকেই
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দুই কেন্দ্র থেকেই রেকর্ড মার্জিনে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে বিপুল ভোটে পরাস্ত করেছেন তিনি, অন্যদিকে ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজ্যের শাসনভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এ দিন ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই শপথ গ্রহণ করলেন বাংলার এই নবনির্বাচিত জননেতা। তাঁর এই শপথ গ্রহণের মুহূর্ত ঘিরে বিজেপি শিবিরে ছিল প্রবল উদ্দীপনা।
বিধানসভায় শপথের মেগা শিডিউল
কেবল শুভেন্দু অধিকারীই নন, বুধবার সকাল থেকেই বিধানসভায় শুরু হয়েছে জয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বুধ ও বৃহস্পতিবার—এই দু’দিন ধরে চলবে শপথ গ্রহণ পর্ব।
বুধবার প্রথমার্ধ: উত্তরবঙ্গ ও মুর্শিদাবাদের জয়ী প্রার্থীরা শপথ নেন।
বুধবার দ্বিতীয়ার্ধ: নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়কদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।
এ দিন শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি শপথ নিয়েছেন দলের হেভিওয়েট নেতা দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পাল এবং রথীন্দ্র বোসের মতো প্রার্থীরা। এছাড়াও তালিকায় ছিলেন অশোক কীর্তনীয়া, সাবিত্রী বর্মণ ও ক্ষুদিরাম টুডু-র মতো জয়ী জনপ্রতিনিধিরা।
শাহের সেই ঘোষণা ও নতুন সরকার
গত শুক্রবারই দিল্লিতে অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন বাংলার পরবর্তী দিশা। পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাবিত হওয়ার পর কোনও পাল্টা দাবি না আসায় তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে নেতা নির্বাচিত করা হয়। সেই ঘোষণার পর ৯ মে রাজভবনে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। আজ বিধানসভায় পা রেখে আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন, রাজ্যে প্রশাসনিক সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে।