ভোটে হারতেই মেদ ঝরিয়ে মোহময়ী অবতারে ফেরার প্রস্তুতি! রাজ-দেবের পথেই কি সায়ন্তিকা?

২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্র এখন শান্ত। গত ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ঘটেছে বড়সড় রদবদল। আর এই পরিবর্তনের ঝড়ে এবার নিজের আসন হারিয়েছেন বরাহনগরের বিদায়ী বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজয়ের ধাক্কা নাকি শরীরী ক্লান্তি? দীর্ঘ সময় জ্বরে ভোগার পর অবশেষে জনসমক্ষে এলেন অভিনেত্রী। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা— ‘হার মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।’
পরাজয়ের গ্লানি ও আত্মসমীক্ষা
২০২১-এ বাঁকুড়ায় হারের মুখ দেখেছিলেন, তবে সেবার দল ক্ষমতায় ফেরায় গ্লানি কিছুটা কম ছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বরাহনগরে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের কাছে পরাজিত হওয়ার পর সায়ন্তিকার গলায় শোনা গেল আত্মসমীক্ষার সুর। তিনি সংবাদমাধ্যমে জানান, “একটু খারাপ লাগা তো আছেই। হয়তো মানুষের আমার ওপর প্রত্যাশা বেশি ছিল, যা আমি পূরণ করতে পারিনি। তবে আমার চেষ্টার কোনও অভাব ছিল না।”
অভিনয়েই ফিরছে মন, শুরু শরীরচর্চা
রাজনীতির ময়দানে গত কয়েক বছর কড়া রোদে ঘুরে টলিউডের এই ‘ফিটনেস ফ্রিক’ নায়িকার শরীরচর্চায় অনেকটাই ভাটা পড়েছিল। ওজনও কিছুটা বেড়েছে বলে গুঞ্জন। তবে এবার গ্ল্যামার দুনিয়ায় ফেরার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছেন তিনি। সায়ন্তিকার কথায়, “অভিনয়ই আমার মূল পেশা। সেই পুরনো সায়ন্তিকা হয়েই ক্যামেরার সামনে ফিরতে চাই। তার জন্য শারীরিক গঠন ঠিক করা এবং নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি।”
রাজ-দেবের পথেই কি সায়ন্তিকা?
ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আর রাজনীতিতে থাকতে চান না। দেব-ও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন মিমি ও নুসরত। সায়ন্তিকা এখনই সরাসরি দল ছাড়ার কথা না বললেও, তাঁর সাম্প্রতিক গতিবিধি এবং ‘স্টুডিওপাড়া’ নিয়ে উৎসাহ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর টলিউডের তারকাদের মধ্যে এক প্রকার ‘মোহভঙ্গ’ শুরু হয়েছে। সায়ন্তিকাও কি সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে রাজনীতিতে ইতি টানবেন? নাকি সিনেমার পর্দার পাশাপাশি চালিয়ে যাবেন জনসেবা? উত্তর এখন সময়ের হাতে। তবে ভক্তদের জন্য সুখবর একটাই— খুব শীঘ্রই বড়পর্দায় নতুন অবতারে ধরা দিতে চলেছেন তাঁদের প্রিয় নায়িকা।