বিধানসভায় ধুন্ধুমার! মমতার চেয়ার সরালেন শুভেন্দু, বদলে নিজের ঘরে ঢোকালেন ‘বিশেষ’ আসন?

ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এবার শুরু হয়েছে এক অনন্য ‘চেয়ার রাজনীতি’। সাধারণত দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী বদল হলেও রাইটার্স বা বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের আসবাব বা ব্যবহৃত চেয়ারটি অপরিবর্তিত থাকে। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নিজের ‘লড়াইয়ের আসন’ নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে শুভেন্দু
বিধানসভা সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পূর্বসূরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ারটি ব্যবহার করতে নারাজ। পরিবর্তে তিনি বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন যে চেয়ারটিতে বসতেন, সেটিকেই নিজের সরকারি কক্ষে নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে সেই পুরনো চেয়ারটিই মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে শোভা পাচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল আসবাব বদল নয়, বরং এক গভীর রাজনৈতিক বার্তা। বিরোধী আসনে বসে দীর্ঘ লড়াইয়ের যে স্মৃতি ওই চেয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তাকেই হয়তো সাফল্যের স্মারক হিসেবে নিজের কাজের টেবিলে রাখতে চেয়েছেন তিনি।

মমতার চেয়ার এখন বিরোধী দলনেতার ঘরে!
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত সেই হাই-ব্যাক চেয়ারটি পাঠানো হয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরে। বর্তমানে সেই পদে রয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে রাজনৈতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন হলো—শোভনদেব কি ওই চেয়ারে বসবেন?

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে ওই চেয়ারটি ব্যবহারের ব্যাপারে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আবেগ এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের খাতিরে মমতার ব্যবহৃত সেই চেয়ারটিকে আলাদা করে সংরক্ষণ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি চেয়ার আনা হতে পারে বলেও বিধানসভা চত্বরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে।

প্রথা ভাঙার রাজনীতি?
বিধানসভার অন্দরে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই শিষ্টাচার ভেঙে যাওয়ায় চর্চা শুরু হয়েছে সব মহলে। শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপকে তাঁর অনমনীয় ব্যক্তিত্ব এবং লড়াইয়ের পরিচয় হিসেবে দেখছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তবে বিরোধী শিবিরের মতে, এটি অহেতুক ব্যক্তিগত সংঘাতের প্রতিফলন। সব মিলিয়ে, তপ্ত রাজনৈতিক বাতাবরণের মধ্যে বিধানসভার একটি ‘চেয়ার’ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।