তলপেটে ব্যথার আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ বিপদ! সামান্য ভুলে চিরতরে হারাতে পারেন মা হওয়ার ক্ষমতা

অনেক মহিলাই প্রায়ই তলপেটে বা যোনি অঞ্চলে ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। সাধারণ গ্যাস-অম্বল বা পিরিয়ডের ব্যথা ভেবে অনেকেই একে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসা শাস্ত্র বলছে, এই অবহেলাই ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের তলপেটে এই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে ‘পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ’ বা PID। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি শরীরকে ভেতর থেকে ঝাঁজরা করে দিতে পারে, এমনকি কেড়ে নিতে পারে মা হওয়ার ক্ষমতাও।

পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID) আসলে কী?
সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব বা ডিম্বাশয়ের একটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। সাধারণত অসুরক্ষিত যৌন মিলনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা ক্ল্যামাইডিয়া বা গনোরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া থেকেই এই রোগ ছড়ায়। সঠিক চিকিৎসা না হলে প্রজননতন্ত্রের ভেতরে ক্ষত তৈরি হয় এবং পুঁজ ভর্তি থলি বা ‘অ্যাবসেস’ (abscesses) সৃষ্টি হতে পারে, যা স্থায়ীভাবে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

চিনে নিন বিপদের লক্ষণগুলি
পিআইডি-র লক্ষণ অনেক সময় খুব মৃদু হয়, যা বোঝা কঠিন। তবে নিচের লক্ষণগুলি দেখা দিলে সাবধান হওয়া জরুরি:

তলপেটে ও শ্রোণিদেশে (Pelvis) অনবরত ব্যথা।

যোনিপথ দিয়ে অস্বাভাবিক ও দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব নির্গত হওয়া।

দুই পিরিয়ডের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত।

সহবাসের সময় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করা।

কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা।

প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়া।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
২৫ বছরের কম বয়সী মহিলা, একাধিক যৌনসঙ্গী থাকা, কনডম ব্যবহার না করে যৌন মিলন করা এবং অতীতে কোনো যৌনবাহিত রোগ (STI) হওয়ার ইতিহাস থাকলে পিআইডি-তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

কখন ছুটবেন চিকিৎসকের কাছে?
যদি হঠাৎ তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হয়, সাথে বমি ভাব এবং উচ্চ মাত্রার জ্বর থাকে, তবে দেরি না করে জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন। যোনি থেকে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বা প্রস্রাবে ব্যথা অনুভব করলে পরীক্ষা করিয়ে নিন। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি আপনাকে গর্ভধারণ থেকে বাঁচাতে পারে, কিন্তু যৌনবাহিত সংক্রমণ বা পিআইডি থেকে নয়। তাই প্রতিবার মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা এবং সঙ্গীরও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো একান্ত প্রয়োজন।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)