মুম্বাই-পুনে মাত্র ২৮ মিনিটে! বিমানের দিন কি শেষ? অশ্বিনী বৈষ্ণবের ঘোষণায় তোলপাড় দেশ

ভারতীয় রেলের ভোলবদল এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। ভবিষ্যতে দেশের একাধিক রুটে ট্রেন পরিষেবা এতটাই উন্নত ও দ্রুতগামী হবে যে, মানুষ বিমান যাত্রা ছেড়ে ট্রেনকেই বেছে নেবেন— সোমবার এমনই চাঞ্চল্যকর ও আত্মবিশ্বাসী দাবি করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর মতে, রেলের এই অবিশ্বাস্য গতির কাছে বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসা কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে।
৯৮ শতাংশ বাজেট শেষ ফেব্রুয়ারিতেই!
রেলমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেলের জন্য বরাদ্দ বাজেটের ৯৮ শতাংশই ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ ব্যয় করে ফেলা হয়েছে। এটি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের এক অনন্য নজির। গত অর্থবর্ষেও মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সমস্ত মূলধনী ব্যয় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কাজের গতি এতটাই বেশি ছিল যে, অর্থবর্ষের শেষে ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যয়ের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছিল সরকারকে।
বিদেশের রেল নেটওয়ার্ককেও পিছনে ফেলেছে ভারত
ভারতের রেলের পরিকাঠামো এখন বিশ্বমঞ্চে টক্কর দিচ্ছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান:
দেশে এ পর্যন্ত ৪৯,০০০ কিলোমিটার রেললাইন বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে, যা জার্মানির মোট রেল নেটওয়ার্কের চেয়েও বেশি।
নতুন যুক্ত হওয়া ৩৬,০০০ কিলোমিটার ট্র্যাক সুইজারল্যান্ডের রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ছয় গুণ।
২৮ মিনিটে মুম্বাই থেকে পুনে! বিমানের দিন কি শেষ?
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সবচেয়ে বড় চমক ছিল যাতায়াতের সময়ের বিশাল হ্রাস। তিনি জানান, মুম্বাই ও পুনের মধ্যে তৈরি হতে চলা নতুন করিডোরের মাধ্যমে এই দুই শহরের দূরত্ব ঘুচবে মাত্র ২৮ মিনিটে। একইভাবে:
পুনে থেকে হায়দ্রাবাদ: ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।
হায়দ্রাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু: প্রায় ২ ঘণ্টা।
বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই: মাত্র ৭৮ মিনিট (এই দুই শহর কার্যত একটি মহানগরে পরিণত হবে)।
দিল্লি থেকে বারাণসী: ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট।
দিল্লি থেকে লখনউ: মাত্র ২ ঘণ্টা।
বিনিয়োগকারীদের সতর্কবার্তা
এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্ত্রী সরাসরি বলেন, “এই ধরনের রুটে কেউ আর বিমানের কথা ভাববে না। যারা বিমান সংস্থায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের বোঝা উচিত যে এই রুটগুলোর ৯৯ শতাংশ যাত্রী এখন রেলপথেই যাতায়াত করবেন।”
রেলমন্ত্রীর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বুলেট ট্রেনের গতি আর অত্যাধুনিক করিডোর ভারতের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব আনতে চলেছে, যেখানে আকাশপথের চেয়ে রেলপথই হবে সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ।