আইপিও বাজারে ইতিহাস গড়ার প্রস্তুতি! ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ভাগ্য ফেরাতে বড় ঝুঁকি নিলেন মুকেশ আম্বানি

ভারতের টেলিকম দুনিয়ার মুকুটহীন সম্রাট রিলায়েন্স জিও-র আইপিও (IPO) নিয়ে এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে এল। আইপিও প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর অনুযায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের ডিজিটাল ও টেলিকম শাখা ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’-এর তালিকাভুক্তির পুরো পদ্ধতিতেই আমূল পরিবর্তন আনছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য যা হতে পারে এই দশকের সবচেয়ে বড় খবর।
কেন পিছিয়ে এল রিলায়েন্স? ওএফএস বনাম ফ্রেশ ইস্যু
প্রাথমিকভাবে রিলায়েন্স ‘অফার ফর সেল’ (OFS) পদ্ধতিতে আইপিও আনার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি বিনিয়োগকারীদের সাথে মূল্য নির্ধারণ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এখন সেই পথে হাঁটছে না কোম্পানি। পরিবর্তে, তারা এখন সম্পূর্ণ ‘ফ্রেশ ইস্যু’ বা নতুন শেয়ার বাজারে ছাড়ার দিকে ঝুঁকছে।
সূত্রের দাবি, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চেয়েছিলেন শেয়ারের দাম অনেক বেশি রাখা হোক। কিন্তু মুকেশ আম্বানির অবস্থান ছিল একেবারে স্পষ্ট—ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সবার আগে। শেয়ারের দাম যদি শুরুতেই আকাশছোঁয়া রাখা হয়, তবে তালিকাভুক্তির দিনে দাম পড়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের লোকসান হতে পারে। আম্বানি চান, লিস্টিংয়ের পর শেয়ারের দাম বাড়ার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকুক। তাই এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বাজারই শেয়ারের আসল দাম ঠিক করবে।
কোথায় যাবে আইপিও-র হাজার হাজার কোটি টাকা?
এই ‘ফ্রেশ ইস্যু’ থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি বিরাট অংশ সরাসরি কোম্পানিতে ঢুকবে। ধারণা করা হচ্ছে, সংগৃহীত তহবিলের প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। বাকি টাকা ৫জি নেটওয়ার্কের বিস্তার, ব্রডব্যান্ড পরিষেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) পরিকাঠামো তৈরির মতো ভবিষ্যৎমুখী প্রজেক্টে খরচ করা হবে।
মূল্যায়নে কি টান পড়বে?
নতুন এই কৌশলের কারণে জিও-র প্রাথমিক মূল্যায়ন (যা আগে ১৩৩-১৫৪ বিলিয়ন ডলার ভাবা হয়েছিল) কিছুটা কমতে পারে। এর ফলে রিলায়েন্সের নিজস্ব ৬৭% অংশীদারিত্বও কিছুটা কমবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির স্বার্থে রিলায়েন্স এই ঝুঁকি নিতে রাজি হয়েছে।
কবে আসছে আইপিও?
আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেবি’র (SEBI) কাছে খসড়া জমা দেবে জিও। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জুলাই মাস নাগাদ শেয়ার বাজারে পা রাখতে পারে ভারতের বৃহত্তম এই টেলিকম সংস্থা।
২০২০ সালে ফেসবুক (মেটা), গুগল এবং কেকেআর-এর মতো জায়ান্টদের কাছ থেকে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল জিও। এবার আইপিও-র মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা মুনাফা আসে, এখন সেটাই দেখার।