৮০-র বরের ‘যৌবনোচিত’ চাহিদা! সহ্য করতে না পেরে বিয়ের এক বছরেই বিচ্ছেদ ৭৫ বছরের কনের

বিয়ের কোনো বয়স নেই—এই বার্তা দিয়ে বছরখানেক আগে চার হাত এক হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বিজনোরের এই প্রবীণ দম্পতির। কিন্তু সেই রূপকথার বিয়ে যে এভাবে তিক্ততার মধ্য দিয়ে শেষ হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি গ্রামবাসীরা। বিয়ের মাত্র এক বছর পূর্ণ হতে না হতেই ৮০ বছর বয়সী কামরুদ্দিন এবং ৭৫ বছর বয়সী নাসিমা খাতুন একে অপরের থেকে চিরতরে আলাদা হয়ে গেলেন। আর তাঁদের বিচ্ছেদের পেছনের কারণ নিয়ে এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।
অনুপ্রেরণা থেকে বিতর্ক
২০২৫ সালের মার্চ মাসে যখন নাহতৌর এলাকার কামরুদ্দিন এবং নাগিনার নাসিমা খাতুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন পাড়া-প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়স্বজন—সবাই একে ইতিবাচক চোখে দেখেছিলেন। বার্ধক্যের একাকীত্ব ঘোচাতে এই বিয়ে সমাজের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় দাম্পত্য কলহ।
নাসিমার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
বিচ্ছেদের পর নাসিমা খাতুন তাঁর যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের আগে কামরুদ্দিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বৃদ্ধ বয়সে নাসিমাকে রান্নাবান্না করতে হবে না, তাঁর নাতনিরাই সব কাজ করে দেবে। কিন্তু বিয়ের পর দেখা যায় বাস্তবতা ভিন্ন। নাসিমার দাবি, ৮০ বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও কামরুদ্দিন তাঁর কাছ থেকে একজন তরুণীর মতো সেবা এবং কাজ আশা করতেন। এমনকি প্রতিদিন রাতে একসঙ্গে শোয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হতো, যা এই বয়সে নাসিমার পক্ষে অসহ্য হয়ে উঠেছিল। শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি থেকেই তিনি অবশেষে ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ব্যর্থ হলো গ্রাম্য সালিশি
গ্রামপ্রধান আবরারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কামরুদ্দিন সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। নাসিমাকে ফিরিয়ে আনতে কয়েক দফা গ্রাম্য সভা বা পঞ্চায়েত ডাকা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরাও অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন নাসিমা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে সম্মানের আশায় তিনি ঘর বেঁধেছিলেন, সেখানে কেবল অবমাননাই পেয়েছেন।
ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিচ্ছেদ
শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না মেলায় পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করেন কামরুদ্দিন। কোনো আইনি জটিলতা বা পুলিশের দ্বারস্থ না হয়েই সামাজিক রীতিনীতি মেনে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে নাসিমা খাতুন তাঁর মেয়ের বাড়িতে ফিরে গেছেন।
যে বিয়ের সানাই এক বছর আগে নাহতৌর গ্রামে খুশির জোয়ার এনেছিল, আজ সেই দম্পতির আলাদা হয়ে যাওয়ার খবর সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। বার্ধক্যের প্রেম কি তবে কেবলই এক অলীক কল্পনা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিজনোরের মানুষের মনে।