ধ্বংসের ছাই থেকে পুনর্জন্ম! সোমনাথ মন্দিরের সেই অজানা কাহিনী, যা আজও শিহরণ জাগায়

ভারতের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে গুজরাটের সোমনাথ মন্দির এক অবিনশ্বর নাম। যা বারবার ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েও ফিনিক্স পাখির মতো পুনর্নির্মিত হয়েছে। আজ, ১১ই মে, আধুনিক ভারতের এই স্থাপত্য ও আস্থার প্রতীকটির পুনর্নির্মাণের ৭৫তম বর্ষপূর্তি। এই বিশেষ দিনটিতে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘সোমনাথ অমৃত মহোৎসব’।
৭৫ বছরের মাইলফলক ও মোদীর অভিষেক
১৯৫১ সালের আজকের দিনেই বর্তমান সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছিল। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে মন্দিরের চূড়ায় বিশেষ ‘কুম্ভাভিষেক’ সম্পন্ন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের ১১টি পবিত্র তীর্থস্থানের জল ব্যবহার করে এই পবিত্র অভিষেক অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়, যা দেশবাসীর কাছে এক বিশেষ আবেগ ও শ্রদ্ধার মুহূর্ত।
সংগ্রাম ও বিজয়ের উপাখ্যান
সোমনাথের ইতিহাস কেবল ধর্মের নয়, বরং তীব্র সংগ্রামেরও। বিদেশি হানাদারদের হাতে এই মন্দির বহুবার লুণ্ঠিত ও ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অদম্য বিশ্বাস আর প্রচেষ্টায় এটি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। প্রভাস পতন-এর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দিরটি আজও ভারতের অখণ্ডতা ও ধর্মীয় চেতনার প্রতীক।
চন্দ্রদেবতার সেই কঠিন তপস্যা
পুরাণ মতে, সোমনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং চন্দ্রদেব সোমরাজ। দক্ষ প্রজাপতির অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি গুজরাটের সৌরাষ্ট্র উপকূলে ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে মহাদেব তাঁকে দর্শন দেন এবং অভিশাপমুক্ত করেন। সেই স্থানেই নির্মিত হয় দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের প্রথম এবং প্রধান মন্দির— ‘সোমনাথ’।
তিন নদীর মিলনস্থলে আধ্যাত্মিক স্পর্শ
বিশ্বাস করা হয় যে, সোমনাথ মন্দিরটি হিরণ, কপিলা ও সরস্বতী নদীর মিলনস্থলে অর্থাৎ ‘বেণী সঙ্গমে’ অবস্থিত। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত এই মন্দিরে দর্শন করলে মানুষের পুরনো পাপ মোচন হয় এবং শারীরিক জটিল ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে বলে ভক্তদের গভীর বিশ্বাস।
আজকের এই অমৃত মহোৎসবে সোমনাথ মন্দির এক অনন্য জ্যোতিতে উদ্ভাসিত। ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং আধুনিক পুনর্জাগরণের এক মেলবন্ধন হিসেবে এই মন্দির আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অম্লান।