বিনা অনুমতিতে বোরিং করলেই দ্বিগুণ জরিমানা! জল চুরির ওপর বড় কোপ উত্তরাখণ্ড সরকারের, ফেঁসে যাবেন না তো?

উত্তরাখণ্ডের পাহাড় থেকে সমতল—বিপজ্জনক হারে নামছে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর। বিশেষ করে দেরাদুন, হরিদ্বার এবং নৈনিতালের মতো পর্যটন ও শিল্পপ্রধান জেলাগুলোতে জলের হাহাকার কমাতে এবার কার্যত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার। অবৈধভাবে মাটির নীচ থেকে জল তোলা এবং জল চুরি রুখতে জারি করা হয়েছে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশিকা।
দ্বিগুণ জরিমানা ও কড়া নজরদারি
রাজ্য সরকার এবং ভূগর্ভস্থ জল বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার থেকে বিনা অনুমতিতে বা লাইসেন্স ছাড়া ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করলে আগের চেয়ে দ্বিগুণ জরিমানা গুনতে হবে। শিল্প সংস্থা, হোটেল, রিসোর্ট এবং বড় বাণিজ্যিক আবাসনগুলোর ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে সেচ বিভাগ। পুরনো মামলাগুলোরও নতুন করে ফাইল খোলা হচ্ছে।
৫,০০০ টাকার ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো বড় নির্মাণ প্রকল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহারের আগে সেচ বিভাগ থেকে বাধ্যতামূলক অনাপত্তি সনদ বা এনওসি (NOC) সংগ্রহ করতে হবে। এর জন্য ৫,০০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সার্টিফিকেট ছাড়া বোরিং করলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ ও জরিমানা করা হবে।
চার ভাগে ভাগ করা হলো এলাকা
সরকার জলের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে গোটা রাজ্যকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে:
নিরাপদ (Safe)
আধা-সংকটপূর্ণ (Semi-critical)
সংকটপূর্ণ (Critical)
অতিরিক্ত ব্যবহৃত (Over-exploited)
হরিদ্বারের ভগবানপুর ও লাকসার, দেরাদুনের রাজপুর রোড ও সহস্রধারা এবং নৈনিতালের কাঠগোদামের মতো এলাকাগুলোতে জল উত্তোলন কার্যত সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
জল সংরক্ষণ করলে বিলে ছাড়!
তবে কেবল শাস্তির ভয় দেখানোই নয়, জল সংরক্ষণে উৎসাহিত করতে দারুণ এক অফার দিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। যেসব প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) করবে এবং মোট ব্যবহৃত জলের অন্তত ২৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করবে, তারা মাসিক জলের বিলে ১০ শতাংশ সরাসরি ছাড় পাবে। তবে ৩০০ বর্গমিটারের চেয়ে বড় আয়তনের যেকোনো ভবনের জন্য বৃষ্টির জল সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা এখন থেকে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।
উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের এই পদক্ষেপ পর্যটন ও শিল্প খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ক্রমবর্ধমান জলের সংকট থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এই কঠোরতা ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।