বাংলায় চালু হলো আয়ুষ্মান ভারত! পকেটে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ঘুরবেন আপনি, জানুন কার্ড তৈরির সহজ নিয়ম

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বড় চমক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই তিনি রাজ্যে কার্যকর করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখন থেকে বাংলার সাধারণ মানুষও পরিবারপিছু বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। হার্টের অপারেশন থেকে ক্যানসার— ব্যয়বহুল সব চিকিৎসা এবার হবে হাতের মুঠোয়।

কারা পাবেন এই সুবিধা?
কেন্দ্রীয় সরকার মূলত ২০১১ সালের আর্থ-সামাজিক জাতিশুমারির (SECC) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করেছে। তবে বর্তমানে এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আপনার নাম তালিকায় আছে কি না তা জানতে—
১. সরাসরি beneficiary.nha.gov.in পোর্টালে যান।
২. মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি ভেরিফিকেশন করুন।
৩. রাজ্য হিসেবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ বেছে নিয়ে রেশন কার্ড নম্বর বা নাম দিয়ে সার্চ করুন।

৫ লক্ষ টাকার বিমা ও ক্যাশলেস সুবিধা
এটি একটি ‘ফ্যামিলি ফ্লোটার’ স্কিম। অর্থাৎ পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য মিলে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবেন। হাসপাতালে ভর্তির সময় কোনো অগ্রিম টাকা জমা দিতে হবে না। রোগী ভর্তি হওয়া থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত যাবতীয় খরচ সরকার ও বিমা সংস্থা বহন করবে। হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের ওষুধ ও পরীক্ষার খরচও এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত।

৭০ ঊর্ধ্ব প্রবীণদের জন্য বিশেষ উপহার
৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য রয়েছে আলাদা টপ-আপ কভারের সুবিধা। পরিবারের অন্য সদস্যরা ৫ লক্ষ টাকার সাধারণ বিমা পেলেও, প্রবীণরা বার্ধক্যজনিত জটিল রোগের জন্য বাড়তি সুরক্ষা পাবেন।

আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথি
তালিকায় নাম না থাকলে স্থানীয় কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) বা মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। স্মার্টফোনে ‘Ayushman App’ ডাউনলোড করে আধার কার্ডের সাহায্যে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করেও নিজের প্রোফাইল আপডেট করা সম্ভব। আবেদনের জন্য মূলত আধার কার্ড এবং ডিজিটাল রেশন কার্ড প্রয়োজন। আধার কার্ডের সাথে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকা এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক।

সারা দেশে চিকিৎসার সুযোগ
এই কার্ডের সবথেকে বড় গুণ হলো এর ‘পোর্টাবিলিটি’। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দেশের যেকোনো রাজ্যে এই কার্ড দেখিয়ে চিকিৎসা করানো যাবে। ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের জন্য এটি এক বিরাট রক্ষাকবচ।

সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর খপ্পরে না পড়ে সরাসরি সরকারি পোর্টাল বা বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।