হাতে সময় নেই! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলআপ নিয়ে বড় আপডেট, আধার কার্ড ও ব্যাঙ্ক নিয়ে কী কড়া নির্দেশ?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল এই প্রকল্প, যেখানে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সরকার গঠনের পর থেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে মুখিয়ে আছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা। কিন্তু এরই মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দাবি ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য— “মে মাসের মধ্যে আবেদন না করলে কি আর টাকা পাওয়া যাবে না?”
আবেদন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়
গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে দাবি করা হচ্ছে, মে মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করতে হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে এই প্রকল্পের নাম করে বেশ কিছু ‘পিডিএফ’ (PDF) ফর্ম ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষও হন্যে হয়ে খুঁজছেন কোথায় মিলবে এই ফর্ম।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। ফলে মে মাসের মধ্যে আবেদন না করলে টাকা পাওয়া যাবে না— এই দাবির কোনো সরকারি ভিত্তি নেই। বরং সরকার বিরোধী বা অসাধু কোনো চক্র ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এই ধরনের গুজব ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারি ঘোষণা ছাড়া কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা বা ফর্ম পূরণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কীভাবে হতে পারে আবেদন?
সূত্রের খবর, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু হলে অনলাইন এবং অফলাইন— দুইভাবেই আবেদন নেওয়া হতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে:
ব্লক অফিস বা পঞ্চায়েত অফিসের মাধ্যমে।
বিশেষ সরকারি ক্যাম্পের (যেমন দুয়ারে সরকার) মাধ্যমে।
নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার নিয়ে আগাম সতর্কতা
টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘ডিবিটি’ (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হবে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত নেই, তাঁরা যেন এখনই সেই কাজটুকু সেরে রাখেন। প্রকল্পের সুবিধা পেতে আধার-বৈধ সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
বিভ্রান্তি এড়াতে কী করবেন?
এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর বা কোনো নতুন সরকারি ওয়েবসাইট অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ডাউনলোডের ব্যবস্থা করেনি। ফলে কোনো ভুয়া ফর্ম পূরণ করে নিজের আধার নম্বর বা ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য শেয়ার করবেন না।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়া মাত্রই আবেদনের যোগ্যতা, বয়সসীমা এবং সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। ততক্ষণ পর্যন্ত গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই শ্রেয়।