১ বছর সোনা কেনা বন্ধ! মোদীর এক আবেদনেই কি ঘুরে যাবে ভারতীয় টাকার ভাগ্য? জানুন আসল গণিত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম যখন আগুনের মতো জ্বলছে, ঠিক তখনই ভারতীয় অর্থনীতিকে বাঁচাতে এক অভিনব ও সাহসী ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর আবেদন— “আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকুন।” কিন্তু সাধারণ মানুষের গয়না কেনার সাথে দেশের অর্থনীতির কী সম্পর্ক? কেনই বা তিনি আবারও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর কথা বলছেন? আসুন সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক।

সোনা কেনায় কেন আপত্তি প্রধানমন্ত্রীর?
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ। কিন্তু সমস্যা হলো, এই সোনা বিদেশ থেকে কেনার সময় সরকারকে বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদীর মতে, বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তেলের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে ভারতের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা (Forex Reserve) তেলের আমদানি খরচ মেটাতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে।

এই সংকটকালে মানুষ যদি সোনা কেনা সাময়িকভাবে কমিয়ে দেন, তবে সেই সাশ্রয় হওয়া ডলার দিয়ে সরকার তেলের ঘাটতি মেটাতে পারবে। একেই প্রধানমন্ত্রী ‘দেশসেবা’ বলে অভিহিত করেছেন।

সোনা না কিনলে কী লাভ? অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ:
১. ডলারের ওপর চাপ কমবে: সোনা আমদানির খরচ কমলে বাজারে ডলারের চাহিদা কমবে।
২. টাকার মান বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা কমলে ভারতীয় রুপির (INR) মান শক্তিশালী হবে। অর্থাৎ ১ ডলার কিনতে আগের চেয়ে কম রুপি খরচ হবে।
৩. ঘাটতি পূরণ: দেশের ‘কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট’ বা চলতি হিসাবের ঘাটতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আবারও কি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর যুগ?
জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও একটি বড় দাওয়াই দিয়েছেন। তিনি দেশবাসীকে আবারও করোনা মহামারীর সময়ের মতো অনলাইনে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) সংস্কৃতিতে ফেরার আর্জি জানিয়েছেন। মোদীর যুক্তি, যদি ভিডিও কনফারেন্সিং বা অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করা যায়, তবে রাস্তায় গাড়ি কম চলবে। ফলে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমবে এবং দেশের বহুমূল্য বৈদেশিক মুদ্রা বেঁচে যাবে।

পরিবারগুলোর প্রতি বিশেষ অনুরোধ
প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি পরিবারকে অনুরোধ করেছেন, এই এক বছর বিয়ে বা উৎসবের জন্য ভারী সোনার গয়না কেনা এড়িয়ে চলতে। অনেকে মনে করতে পারেন একটি পরিবারের সোনা না কেনায় কী আর হবে? কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের লক্ষ লক্ষ পরিবারের সামগ্রিক চাহিদা যখন কমে আসবে, তখন শত শত টন সোনা আমদানির ভার থেকে মুক্তি পাবে দেশ।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ইকোনমিক ট্রিক’ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে দেশবাসীর সাশ্রয়ী মনোভাবই যে আগামীর অর্থনৈতিক মন্দা রুখতে বড় অস্ত্র হতে চলেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।