পুরনো শত্রুতা ভুলে নবান্নে ‘রাজকীয়’ প্রবেশ শুভেন্দুর! ১৪ তলায় বসেই কি প্রথম দিনেই বড় কোনো ‘ধামাকা’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

সময় বড়ই বলবান। ঠিক ৮৭৩ দিন আগে, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর শেষবার যখন নবান্নের অলিন্দে পা রেখেছিলেন, তখন তাঁর পরিচয় ছিল বিরোধী দলনেতা। সেদিন মুখ্যসচিবের ঘরে দাবিদাওয়া নিয়ে যাওয়া সেই শুভেন্দু অধিকারীই আজ, ১১ মে ২০২৬-এ ফিরলেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে। ঘড়িতে তখন ঠিক বেলা ১১টা ৩০ মিনিট। পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সগৌরবে নবান্নে প্রবেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
গার্ড অফ অনার ও রাজকীয় অভ্যর্থনা
নবান্নে পা রাখতেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়ে সম্মান জানায় রাজ্য পুলিশ। নবান্নের প্রবেশপথে তাঁকে স্বাগত জানান নবনিযুক্ত মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং প্রশাসনের একঝাঁক শীর্ষকর্তা। যে ভবনে একসময় প্রবেশের জন্য তাঁকে আইনি লড়াই লড়তে হতো, আজ সেখানেই তাঁকে লাল কার্পেটে স্বাগত জানাল প্রশাসন।
১৪ তলায় প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের জন্য নির্দিষ্ট নবান্নের ১৪ তলার ঘরেই প্রথম মন্ত্রিসভা (Cabinet Meeting) বৈঠকে বসেন শুভেন্দু। বৈঠকে তাঁর পাশে ছিলেন নবনির্বাচিত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। যদিও এদিন তাঁদের দপ্তর বণ্টন করা হয়নি, তবে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও আগামী দিনের রোডম্যাপ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় এই বৈঠকে।
প্রথম দিনেই ‘অ্যাকশন মোড’-এ মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই আজ দিনভর ঠাসা কর্মসূচি শুভেন্দুর। প্রথম দিনেই তিনটি মেগা প্রশাসনিক বৈঠক করতে চলেছেন তিনি।
পর্যালোচনা বৈঠক: ক্যাবিনেট শেষ করেই রাজ্যের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন তিনি।
প্রশাসনিক বৈঠক: দুপুরে জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।
পুলিশি বৈঠক: বিকেলে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জোনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধায়ক বৈঠক: বিকেল ৪টেয় নবান্নেই বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসবেন তিনি।
সুরক্ষা ও সুশাসনের অঙ্গীকার
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি এবং পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করলাম। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। একটি দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
বিরোধী নেতার আসন থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কুর্সি— শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রত্যাবর্তন বর্তমান রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, প্রথম দিনের এই ঝোড়ো ইনিংসের পর আগামী দিনে বাংলা শাসনের ক্ষেত্রে তিনি আর কী কী চমক নিয়ে আসেন।