তেলের দাম নিয়ে বড় আশঙ্কার মেঘ! রাজনাথ সিংয়ের জরুরি বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা, কী বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্র?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশবাসীকে একগুচ্ছ কঠোর ও সতর্কতামূলক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই আজ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ডাকা জরুরি বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।

প্রধানমন্ত্রীর ৫টি ‘মাস্টার’ পরামর্শ
রবিবার একটি জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানান, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিচার করে আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে। তিনি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু বিশেষ আবেদন জানান:

সোনা কেনায় লাগাম: আগামী এক বছর অপ্রয়োজনীয়ভাবে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জ্বালানি সাশ্রয়: পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমাতে হবে। অপ্রয়োজনে গাড়ি বের না করার অনুরোধ করেছেন তিনি।

ওয়ার্ক ফ্রম হোম: যানচলাচল ও জ্বালানি খরচ কমাতে প্রয়োজনে করোনাকালের মতো ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি চালুর কথা বলেছেন।

বিদেশ ভ্রমণ ও ডেস্টিনেশন ওয়েডিং: আপাতত বিদেশ সফর এবং অতিরিক্ত খরচবহুল ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ এড়িয়ে চলার জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

কেন এই কড়া সতর্কতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-আমেরিকা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগই আমদানি করে। তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহণ খরচ বাড়বে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হবে আকাশছোঁয়া। এই মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতেই আগেভাগে সাধারণ মানুষকে মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দিলেন মোদী।

রাজনাথ সিংয়ের জরুরি বৈঠক: কী হতে চলেছে?
প্রধানমন্ত্রীর বার্তার ঠিক পরদিনই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান ঠিক কী হবে এবং তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কী কী বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা।

যদিও বৈঠকের মূল সূচি এখনও গোপন রাখা হয়েছে, তবুও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের ধারণা, আজ বিকেলের মধ্যেই কেন্দ্র কোনো বড়সড় ঘোষণা বা জরুরি নির্দেশিকা জারি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা কি ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে বড় টান ফেলবে? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে গোটা দেশ।