মে মাস শেষ হতে চলল, তবু ফাঁকা অ্যাকাউন্ট! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি চিরতরে বন্ধ? বড় আপডেট দিল নতুন সরকার

মে মাসের ১০ তারিখ পার হয়ে ১১ তারিখ হতে চলল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি মহিলার মোবাইলে এখনও বাজেনি সেই পরিচিত ‘মেসেজ’। প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকে গেলেও এই মাসে এখনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, টাকা না ঢোকায় তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সাধারণ মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাবেন কি না, তা নিয়ে এখন রাজ্যের প্রতিটি কোণায় চলছে জোর চর্চা।
ভাতা নিয়ে বিভ্রান্তি কেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার থাকাকালীন ৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের অঙ্ক ধাপে ধাপে বেড়ে সাধারণ মহিলাদের জন্য ১৫০০ এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলাদের জন্য ১৭০০ টাকায় পৌঁছেছিল। কিন্তু মে মাসে শুধুমাত্র লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী বা বিধবা ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোর টাকাও এখনও উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে— সরকার বদলে যাওয়ার সাথে সাথেই কি তবে জনমুখী প্রকল্পগুলোয় কোপ পড়ল?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
নির্বাচনী ইস্তেহারে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করবে এবং রাজ্যের প্রতিটি মহিলাকে মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নিলেও এখনও এই নতুন প্রকল্প চালুর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার হয়তো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে সরাসরি ৩০০০ টাকার নতুন প্রকল্প আনতে চলেছে, আর সেই কারণেই বর্তমান প্রকল্পের টাকা দেওয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো সরকার পরিবর্তনের পর পুরনো প্রকল্পের রূপরেখা পর্যালোচনা করা হয়। যেহেতু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পূর্বতন তৃণমূল সরকারের মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল, তাই নতুন সরকারের আমলে তার নাম বা কাঠামোগত পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই স্পষ্ট করেছেন যে, রাজ্যের কোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ৩০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু না হওয়া পর্যন্ত মহিলারা কি পুরনো হারেই টাকা পাবেন?
পুরোটাই এখন সময়ের অপেক্ষা
নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন সরকার প্রশাসনিক স্তরে রদবদল নিয়ে ব্যস্ত। ভাতার টাকা ঢোকা নিয়ে সরকারিভাবে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকলেও, মে মাসের বিলম্ব চিন্তা বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের। এখন দেখার, চলতি মাসেই বকেয়া টাকা ঢুকে যায় না কি সরাসরি ৩০০০ টাকার নতুন ধামাকা নিয়ে হাজির হয় বিজেপি সরকার।