রাতের ট্রেনে এই ৪ ভুল করলেই সোজা হাজতবাস! ঘুমোনোর আগে রেলের নতুন নিয়ম না জানলে পস্তাবেন

ভারতীয় জনজীবনের লাইফলাইন হলো ট্রেন। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য রেলের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু রেলযাত্রার আনন্দ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে যাত্রীদের জন্য রয়েছে একগুচ্ছ কড়া নিয়ম। বিশেষ করে রাতের সফরের ক্ষেত্রে রেলের নির্দেশিকা না মানলে বড়সড় জরিমানা, এমনকি আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে পারেন আপনি। ট্রেনের কামরায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রেলওয়ে বোর্ড যে নিয়মগুলো মেনে চলতে বলছে, তা একনজরে দেখে নিন।

জোরে কথা বা গান শোনা নিষিদ্ধ
রাতের বেলা আপনি যদি ট্রেনে ভ্রমণ করেন, তবে রাত ১০টার পর কামরার ভেতরে জোরে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আপনার গল্প বা উচ্চস্বরে আলোচনা পাশের যাত্রীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটালে রেল পুলিশ (GRP/RPF) আপনার বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে পারে। একইভাবে, ফোনে লাউডস্পিকারে গান শোনা বা ভিডিও দেখাও অপরাধ বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে রেলের পরামর্শ, প্রয়োজনে হেডফোন ব্যবহার করুন, অন্যথায় সহযাত্রীর অভিযোগে আপনার যাত্রা মাঝপথেই তিক্ত হয়ে উঠতে পারে।

লাইট নিয়ে কড়াকড়ি
যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করতে রাত ১০টার পর ট্রেনের কামরার প্রধান আলোগুলি নিভিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র নাইট ল্যাম্প বা মৃদু আলো জ্বালানো থাকতে পারে। রাত গভীর হওয়ার পর অযথা আলো জ্বালিয়ে রাখা রেলের শিষ্টাচার বিরুদ্ধ।

মিডেল বার্থের অধিকার
ট্রেন সফরে সবথেকে বেশি বিতর্ক হয় মিডেল বার্থ নিয়ে। রেলের নিয়ম অনুযায়ী, মিডেল বার্থের কোনো যাত্রী যদি রাত ১০টার পর ঘুমোতে চান, তবে নীচের বার্থের যাত্রী তাঁকে বাধা দিতে পারবেন না। রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মিডেল বার্থটি খুলে রাখা ওই যাত্রীর আইনত অধিকার। তবে সকাল ৬টা বাজার পর সেটি আবার নামিয়ে রাখতে হবে যাতে নীচের বার্থের যাত্রীরা বসতে পারেন।

রেল পুলিশের কড়া নজরদারি
ট্রেনে চুরি বা অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাতে টহলদারি বাড়িয়েছে রেল পুলিশ। তাই ট্রেনের ভেতরে কোনো আপত্তিকর কাজ বা সহযাত্রীর অসুবিধা সৃষ্টি করলে মোটা টাকা জরিমানা গুনতে হতে পারে।

পরের বার রাতের সফরে যাওয়ার আগে এই নিয়মগুলো অবশ্যই মাথায় রাখুন। আপনার একটু সচেতনতা আপনার এবং আপনার সহযাত্রীদের সফরকে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ করে তুলবে।