“আমি কোনো নেপো-কিড নই”, সাসপেন্ড হতেই দলের গোপন কেলেঙ্কারি হাটে হাঁড়িতে ভাঙলেন ঋজু দত্ত!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক পতনের পর এবার শুরু হয়েছে ঘরোয়া কোন্দল। বাংলার মসনদ এখন বিজেপির দখলে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর ঘাসফুল শিবিরের এই চরম বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরের ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোচ্ছে। বিশেষ করে দলের মুখপাত্র ঋজু দত্তকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করার পর, যে ধরণের বিস্ফোরক অভিযোগ তিনি এনেছেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

“আমি নেপো-কিড নই”: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম বিস্ফোরণ
শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সাসপেন্ড হওয়ার ঠিক পরেই ঋজু দত্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন কিন্তু আক্রমণাত্মক পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “যৌবনের ১৩টা বছর এই দলকে দিয়েছি। কোনো ‘নেপো কিড’ নই বলে নিজের যোগ্যতায় ধাপে ধাপে উঠেছি। আজ সত্যি বলার অপরাধে আমাকেই ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হলো!” তাঁর এই ‘নেপো কিড’ বা বংশপরম্পরায় রাজনীতিতে আসা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে দেওয়া খোঁচা স্পষ্টতই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দিকে।

আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে ‘টিকিট বিক্রির’ অভিযোগ
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋজু দত্ত সবথেকে বড় বোমাটি ফাটিয়েছেন ভোট কুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি:

পুরো দলটা আইপ্যাক-এর হাতে চলে গিয়েছিল। টিকিট দেওয়ার নামে ২০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে।

ঋজুর দাবি, ডেবরা থেকে টিকিট নিশ্চিত করতে আইপ্যাক-এর প্রতীক এবং অর্জুন নামক দুই কর্তা তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন।

আবেগঘন স্বীকারোক্তি: ঋজু জানান, এই টাকা জোগাড় করতে তাঁর মা ও স্ত্রী নিজেদের গয়না খুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের বিবেকের তাড়নায় সেই টাকা তিনি ফেরত দেন।

হারের নেপথ্যে ‘তোলাবাজি ও অত্যাচার’
দলের পরাজয়ের জন্য নিচু তলার নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন ঋজু। তিনি সাফ জানান, পঞ্চায়েত প্রধান থেকে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ— এঁরা সাধারণ মানুষের ওপর যে পরিমাণ অত্যাচার ও তোলাবাজি চালিয়েছেন, সাধারণ মানুষ ব্যালট বক্সে তারই জবাব দিয়েছে। এছাড়া মহিলাদের অসম্মান করাকেও পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

“তৃণমূল ফোন তোলেনি, বাঁচিয়েছে বিজেপি”
সবথেকে চাঞ্চল্যকর দাবিটি ঋজু করেছেন নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, হারের পর তৃণমূলের কোনো বড় নেতাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। সেই সময় তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা রুখতে বা চাকরি বাঁচাতে সাহায্য করেছে বিজেপি নেতৃত্বই। এই দাবি দলের বাকি অংশ মেনে না নিলেও, ঋজু দত্তের এই মন্তব্য যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তিকর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তৃণমূলের অন্দরের এই গৃহযুদ্ধ এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং ঋজু দত্তের তোলা এই গুরুতর অভিযোগগুলোর কোনো তদন্ত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।