‘চোরকে সঙ্গে নেব না!’ জোটের প্রস্তাবে মমতাকে মুখের ওপর না করে দিলেন শতরূপ-সেলিমরা, বঙ্গ রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা।

বাংলার ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পরই বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। যে বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান, আজ বিজেপির কাছে হারের পর সেই বাম-অতিবামদেরই ‘এক মঞ্চে’ আসার ডাক দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই প্রস্তাবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। একদিকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে সরাসরি ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, অন্যদিকে বাম নেতারাও তৃণমূল নেত্রীর এই আহ্বানকে ধুয়ে দিয়েছেন।

মমতার জোট বার্তা: ‘আমার কোনো ইগো নেই’
বিজেপি বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার ডাক দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা সবাই চাই একটা যৌথ মঞ্চ তৈরি হোক। আপনারা যদি বামপন্থীদের কথা বলেন, সেখানেও আমার কোনো ইগো নেই। অতিবাম থেকে শুরু করে জাতীয় স্তর—বিজেপিকে রুখতে হলে সবাইকে এক হতে হবে।” তিনি আরও জানান যে, দিল্লিতে যেমন লড়াই চলবে, তেমনই বাংলায় জোট বাঁধার ক্ষেত্রে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো আপত্তি নেই।

শুভেন্দুর কড়া জবাব
মমতার এই প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র তথা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “উনি এখন রাজনীতিতে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। ওনার কোনো কথাতেই আমি প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না।” উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই সরকার পক্ষ ও বিদায়ী শাসক দলের মধ্যে বাগযুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে।

‘একেবারেই নয়!’ সাফ কথা সেলিমের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাত বাড়ালেও তা ধরতে নারাজ বাম নেতৃত্ব। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধমূলক কাজ, তোলাবাজি বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কোনো শক্তির প্রবেশাধিকার নেই তাঁদের জোটে। সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষা দেওয়ার লড়াইয়ে তৃণমূলকে কোনোভাবেই সঙ্গী করতে চান না তাঁরা।

শতরূপ-সুজনের আক্রমণ
বাম নেতা শতরূপ ঘোষ এক কদম এগিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাম বিদায়ের সময় বিজেপি বাংলায় শূন্য ছিল, এখন তারা সরকারে। আপনার মতো চোরকে আমরা সঙ্গে নেব না। ভাইপো আর আপনার দলের লোকরা যে সম্পত্তি বানিয়েছিল, তা রক্ষা করার কথা ভাবুন।”

একই সুর শোনা গিয়েছে বর্ষীয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তীর গলাতেও। তিনি মনে করিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একসময় বিজেপিকে তাঁর ‘ন্যাচারাল অ্যালি’ (স্বাভাবিক মিত্র) বলেছিলেন। সুজনবাবুর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপিকে বাংলায় ইন্সটল করেছেন। এটা ওনার ঐতিহাসিক অপরাধ।”

এবারের নির্বাচনে ডোমকলের মতো আসনে জয় পেয়ে বামেরা বিধানসভায় ফের পা রাখায় তাদের মনোবল অনেকটাই চাঙ্গা। এই পরিস্থিতিতে মমতার ‘জোট প্রস্তাব’ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।