মোদী সরকারের মাস্টারপ্ল্যান! মমতার আমলের বাধা সরিয়ে বাংলায় শুরু হচ্ছে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ দৌড়, তালিকায় কোন কোন প্রকল্প?

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের আবহে এবার রাজ্যের ঝুলে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যের পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মধ্যকার সংঘাতের কারণে অসংখ্য জনকল্যাণমূলক কাজ থমকে ছিল। এবার সেই জট কাটিয়ে দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সমন্বয়ের দায়িত্বে রাজনাথ সিং
রাজ্যের আটকে থাকা প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। রাজনাথ সিং ইতিমধ্যেই সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজ নিজ দপ্তরের বকেয়া প্রকল্প ও সমস্যার তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে সেই তথ্য আসার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে।

সংঘাতের অবসান ও ‘ডাবল ইঞ্জিন’ গতি
অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতা ও সংঘাতমূলক অবস্থানের কারণে রাজ্যের মানুষ অনেক কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। জমি অধিগ্রহণে বাধা থেকে শুরু করে প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়ার মতো ঘটনায় বারবার কাজ থমকে গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ায় এবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

কোন কোন প্রকল্পে ফিরছে গতি?
কেন্দ্রীয় তালিকার শীর্ষে রয়েছে একাধিক জনমুখী প্রকল্প যা এতদিন রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে ছিল:

আয়ুষ্মান ভারত: ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার এই প্রকল্প বাংলায় চালুর পথে আর বাধা থাকছে না। স্বাস্থ্য সাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত দ্বন্দ্বে এতদিন বাংলার মানুষ এই কেন্দ্রীয় বিমার সুবিধা পাননি।

আবাস ও সড়ক যোজনা: ‘পিএম আবাস যোজনা’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা’-র অধীনে থমকে থাকা কাজগুলো দ্রুত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম পরিবর্তন ও দুর্নীতির অভিযোগে যে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ ছিল, তা পুনরায় চালু হতে পারে।

জল জীবন মিশন ও নমামি গঙ্গে: জমি জটের কারণে গঙ্গা পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় এসটিপি (পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার) তৈরির কাজ থমকে ছিল। এবার সেই জমি সমস্যা মিটিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও মৎস্য সম্পদ: রাজ্যে নতুন শিক্ষানীতি, পিএম শ্রী স্কুল এবং প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার মতো প্রকল্পগুলি এবার পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর করা হবে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও ৪৫ দিনের লক্ষ্যমাত্রা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিষয়টি হলো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়া নির্মাণ। পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতায় জমি না মেলায় এই কৌশলগত কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল। তবে এবার কেন্দ্রীয় সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। জানা গেছে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত বেড়া নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে দিল্লির এই তৎপরতা প্রমাণ করছে যে, বাংলার থমকে যাওয়া উন্নয়নকে এবার বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে চলেছে মোদী সরকার। এখন দেখার, এই প্রশাসনিক তৎপরতা সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা দ্রুত পরিবর্তন আনে।