মাঠের বাইরেও ‘ক্যাপ্টেন কুল’-এর ছক্কা! বিহার-ঝাড়খণ্ডে ধোনি যা করলেন, তা শুনে চোখ কপালে উঠবে আপনার!

ভারতীয় ক্রিকেট মাঠের সেই পরিচিত ‘হেলিকপ্টার শট’ এখন হয়তো নিয়মিত দেখা যায় না, কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনির রাজকীয় মেজাজ বিন্দুমাত্র কমেনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কয়েক বছর পরও আর্থিক দুনিয়ায় রীতিমতো ব্যাটিং দাপট বজায় রেখেছেন ‘থালা’। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, বিহার ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ব্যক্তিগত করদাতা হিসেবে আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।

৫০ কোটিরও বেশি ট্যাক্স! মাহির আয়ের উৎস কী?
মাঠের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেও ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট, আইপিএল এবং নিজের একাধিক ব্যবসা থেকে ধোনির আয় আকাশছোঁয়া। আয়কর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে ধোনি অগ্রিম কর (Advance Tax) হিসেবে ৫০ কোটি টাকারও বেশি জমা দিয়েছেন। বিহার-ঝাড়খণ্ড অঞ্চলের প্রধান আয়কর কমিশনার ড. ডি. সুধাকর রাও নিশ্চিত করেছেন যে, ব্যক্তিগত বিভাগে ধোনিই এই অঞ্চলের সবথেকে বড় করদাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড বিহার-ঝাড়খণ্ডের
ধোনির ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সরকারি কোষাগারেও এসেছে বড় সাফল্য। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে সম্মিলিতভাবে ২০,০০০ কোটি টাকার রেকর্ড আয়কর সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ১২,০০০ কোটি টাকাই এসেছে ঝাড়খণ্ড থেকে। মজার বিষয় হলো, এই বিশাল পরিমাণ ট্যাক্সের প্রায় ৭০ শতাংশই জমা পড়েছে টিডিএস (TDS) বা সোর্স ট্যাক্সের মাধ্যমে, যা আর্থিক স্বচ্ছতার এক বড় নিদর্শন।

কর্পোরেট দুনিয়ার দাপট
ব্যক্তিগতভাবে ধোনি শীর্ষে থাকলেও সরকারি সংস্থাগুলোও পিছিয়ে নেই। সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেড (CCL), ভারত কোকিং কোল লিমিটেড (BCCL) এবং CMPDI-এর মতো বড় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ কর জমা দিয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও খনি শিল্প থেকে আশানুরূপ কর আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

৫.৫ কোটি প্যান কার্ড, কিন্তু রিটার্ন জমা দিচ্ছেন কতজন?
ধোনির এই বিশাল অঙ্কের ট্যাক্স প্রদানের খবরের মাঝেই উঠে এসেছে এক হতাশাজনক চিত্র। পরিসংখ্যান বলছে, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে মোট ৫.৫ কোটি মানুষের প্যান কার্ড রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁদের মধ্যে মাত্র ৪০ লক্ষ মানুষ আয়কর রিটার্ন (ITR) ফাইল করেন। প্যান কার্ডধারী এবং রিটার্ন দাখিলকারীদের মধ্যে এই বিশাল ব্যবধান দূর করতে এবার বিশেষ ‘আউটরিচ প্রোগ্রাম’ বা সচেতনতা শিবির করার পরিকল্পনা নিয়েছে আয়কর দপ্তর।

ধোনির এই নজিরবিহীন সাফল্য যেমন ভক্তদের গর্বিত করছে, তেমনই সাধারণ মানুষকে নিয়মিত কর প্রদানে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।