“AI-এর রিমোট কন্ট্রোল এবার আমেরিকার হাতে!”-গুগল-মাইক্রোসফটের সঙ্গে বড় চুক্তি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির লাগাম কি এবার চলে যাচ্ছে সরকারের হাতে? বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ে বাড়তে থাকা উন্মাদনা এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল গুগল, মাইক্রোসফট এবং ইলন মাস্কের এক্সএআই (xAI)। এখন থেকে এই সংস্থাগুলির তৈরি কোনও উন্নত এআই মডেল বাজারে আসার আগেই তা পরীক্ষা করে দেখবে মার্কিন সরকার।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ‘আগে দর্শন’
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগাধীন ‘সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইনোভেশন’ (CAISI)-এর সঙ্গে এই টেক জায়ান্টদের একটি বিশেষ চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনও নতুন এআই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার আগেই সিএআইএসআই-এর বিশেষজ্ঞরা সেটির সক্ষমতা এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণ করবেন। মূলত জাতীয় নিরাপত্তা এবং বড় ধরনের কোনও বিপদ ঘটার সম্ভাবনা আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ।
সুরক্ষা কবচ কি শিথিল করা হবে?
সবথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই পরীক্ষার স্বার্থে কোম্পানিগুলো তাদের এআই মডেলের ওপর থাকা নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতেও রাজি হয়েছে। এর ফলে সরকারি আধিকারিকরা মডেলগুলোর গভীরে গিয়ে দেখতে পারবেন যে, এগুলি কোনও ভুল তথ্য ছড়াতে বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে কি না। সিএআইএসআই-এর পরিচালক ক্রিস ফাল জানিয়েছেন, উন্নত এআই প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে বোঝার জন্য কঠোর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি।
নিয়ন্ত্রণ বনাম স্বাধীনতা: শুরু নয়া বিতর্ক
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল যখন গোটা বিশ্বজুড়ে এআই-এর ওপর নজরদারি চালানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। একদিকে যখন প্রযুক্তি সংস্থাগুলো সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে, তখন অন্যদিকে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এতে এআই-এর উদ্ভাবনী ক্ষমতা যেমন নিয়ন্ত্রিত হতে পারে, তেমনি গোপনীয়তা এবং নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের সাফ কথা, ভবিষ্যতের এআই মডেলগুলো যাতে ভুয়ো তথ্য (Misinformation) ছড়ানোর অস্ত্র না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো সংস্থার এই পিছু হঠা কি এআই জগতের স্বাধীনতায় ইতি টানবে? এখন সেটাই দেখার।