বাংলার উরফি না কি অন্য কিছু? লোহার খাঁচা আর খুদেদের ছবি গায়ে চড়িয়ে এ কী করলেন মনামী!

টলিউডের ফ্যাশন আইকন হিসেবে তাঁর নাম ডাক দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর পোশাক নির্বাচনের ধরণ দেখে অনেকেই ভুরু কুঁচকাচ্ছেন। ‘বেঙ্গলস মোস্ট স্টাইলিশ অ্যাওয়ার্ড’-এর মঞ্চে নিজের অভিনব স্টাইলিং দিয়ে ফের চর্চার কেন্দ্রে অভিনেত্রী মনামী ঘোষ। কেউ কেউ তাঁকে প্রশংসায় ভাসালেও, সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ তাঁকে বিঁধতে ছাড়ল না। পরিস্থিতির এমনই অবনতি যে, তাঁকে ‘বাংলার উরফি জাভেদ’ বলেও কটাক্ষ করছেন অনেকে।

লোহার স্ট্রাকচার আর ছোটবেলার স্মৃতি:
বৃহস্পতিবারের এই হাই-ভোল্টেজ অনুষ্ঠানে মনামী হাজির হয়েছিলেন এক বিচিত্র স্কার্ট ও টপে। সাধারণ স্কার্ট ভেবে ভুল করলে চলবে না। অভিনেত্রী নিজেই জানালেন, স্কার্টটি তৈরি হয়েছে লোহার স্ট্রাকচারের ওপর। আর সেই কাপড়ের ক্যানভাস জুড়ে ফুটে উঠেছে এনজিও-র একঝাঁক শিশুর আঁকা ছবি। ঘর-বাড়ি, নদী-নৌকা আর নীল আকাশের সেই ছোঁয়ায় ছিল শৈশবের নস্টালজিয়া। এখানেই শেষ নয়, মনামীর হাতে ছিল একটি বড়সড় হলুদ কাগজের নৌকা, যাতে লেখা— ‘ছুটি ছুটি’।

নিজের এই ‘লুক’ নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “এই থিমের নাম ‘ছুটি ছুটি’। আমাদের ছোটবেলায় দূরদর্শনে এই নামে এক অনুষ্ঠান হতো। বৃষ্টির দিনে নৌকা বানানো বা আঁকিবুঁকি কাটার সেই অনুভূতিগুলোই পোশাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।”

নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনা:
মনামীর এই শৈল্পিক ভাবনার কদর করার বদলে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে মস্করা। অভিনেত্রীর পোশাক দেখে হাসির রোল উঠেছে কমেন্ট বক্সে। একজন ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “কখনো কাঁথা দিয়ে জামা বানান, কখনো ড্রয়িং খাতার পৃষ্ঠা গায়ে দিয়ে চলে আসেন!” অন্য এক ইউজার তো একধাপ এগিয়ে ট্রোল করে বলেন, “এই তো পাওয়া গিয়েছে আমাদের বাসন মেজে রাখার ঝুড়িটা! ওটা দিয়েই স্কার্ট বানিয়েছে বুড়িটা।” আবার উরফি জাভেদের সঙ্গে তুলনা টেনে কেউ নাম দিয়েছেন, “উরফির ছোট বোন বরফি।”

কেরিয়ার গ্রাফ বনাম ফ্যাশন:
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘সাত কহোঁ’ ধারাবাহিকের হাত ধরে অভিনয় জগতে পা রাখা এই অভিনেত্রী আজ টলিউডের জনপ্রিয় মুখ। ‘বিন্নি ধানের খই’ থেকে ‘ইরাবতীর চুপকথা’—ছোট পর্দার জার্নি পেরিয়ে বড় পর্দাতেও ‘বেলাশেষে’, ‘বেলাশুরু’ বা ‘পদাতিক’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু বারবার তাঁর এই ‘এক্সপেরিমেন্টাল’ ফ্যাশন তাঁকে বিতর্কের শিরোনামে নিয়ে আসছে। শিল্পের খাতিরে এই ঝুঁকি না কি নিছকই প্রচারের আলোয় থাকার চেষ্টা, তা নিয়ে আপাতত দ্বিধাবিভক্ত টলিপাড়া।