খুলছে দিল্লির কল! নতুন সরকার আসতেই বকেয়া ২৭০০ কোটি দিচ্ছে কেন্দ্র, কার কপালে জুটবে পরিশ্রুত জল?

বাংলার প্রশাসনিক অলিন্দে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। আর সেই পরিবর্তনের আবহেই রাজ্যের জন্য এল বড় সুখবর। দীর্ঘদিনের টালবাহানা আর বকেয়া বরাদ্দের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘জল-জীবন মিশন’ প্রকল্পে কেন্দ্রের কাছ থেকে ২৭০০ কোটি টাকা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। নবান্ন সূত্রে খবর, বকেয়া এই বিশাল অঙ্কের টাকা ছাড়ার সবুজ সংকেত ইতিমধ্যেই দিয়েছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক।
মৌ স্বাক্ষর ও বরাদ্দের পথ প্রশস্ত
জানা গিয়েছে, এই বকেয়া বরাদ্দ নিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের সচিব। বৈঠকের মূল নির্যাস হতে চলেছে একটি মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা ‘মৌ’ স্বাক্ষর। এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরেই আটকে থাকা বিপুল অর্থ ধাপে ধাপে রাজ্যের হাতে আসবে। ইতিমধ্যেই কতগুলি বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কত টাকা বকেয়া রয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট কেন্দ্রকে পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
সংঘাতের অবসান?
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ‘জল-জীবন মিশন’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দিল্লি বনাম নবান্নের টানাপোড়েন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। প্রকল্পের নামকরণ এবং ‘ব্র্যান্ডিং’ নিয়ে কেন্দ্রের নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল মোদি সরকার। রাজ্য সেই সময় বঞ্চনার পাল্টা অভিযোগ তুললেও, পরবর্তীতে কেন্দ্রের অনেক শর্তই মেনে নিয়েছিল। তবুও বরাদ্দ মেলেনি। এখন রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কেন্দ্রের এই দ্রুত পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী একযোগে কাজের বার্তা
ভোটের প্রচার ময়দানে দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার ‘পিএম টু সিএম’ (PM to CM) অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে উন্নয়নের বার্তা দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৭০০ কোটি টাকার এই বরাদ্দ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সেই সমন্বয়েরই প্রথম ধাপ। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা বা টানাপোড়েনের ইতি টেনে এবার রাজ্যে ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ গতি পাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
নতুন সরকারের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লির এই ‘উপহার’ বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য বড় প্রাপ্তি হতে চলেছে। এখন দেখার, এই বিপুল অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে কত দ্রুত রাজ্যের জলসংকটের সমাধান করা সম্ভব হয়।