বিধানসভায় মমতার ছবি সরানোর কাজ শুরু! সচিবালয় থেকে মন্ত্রীদের ঘর— বন্ধ দরজার আড়ালে চলছে কোন মহাপ্রস্তুতি?

বাংলায় এখন পালাবদলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। একদিকে যখন সরকার গঠনের তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কেন্দ্রবিন্দু বিধানসভায় দেখা যাচ্ছে নজিরবিহীন ব্যস্ততা। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বিধানসভার চার শীর্ষ পদাধিকারীর দফতর।
তৎপরতা তুঙ্গে: বন্ধ দরজার আড়ালে কী?
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বিধানসভার স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ এবং ডেপুটি চিফ হুইপ— এই চারজনের ঘর আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই দফতরগুলোতে বাইরের কারও প্রবেশের অনুমতি নেই। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর পুনরায় এই কক্ষগুলো খুলে দেওয়া হবে বলে খবর।
মুছে যাচ্ছে পুরনো ছবি, বদলে যাচ্ছে অন্দরসজ্জা
ইতিমধ্যেই বিধানসভার অন্দরে পরিবর্তনের ছোঁয়া স্পষ্ট। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি মন্ত্রীদের ঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি গোটা বিধানসভা চত্বর জুড়েই চলছে ঝাড়পোছ ও মেরামতির কাজ। কোথায়ও খারাপ সুইচ বোর্ড পাল্টানো হচ্ছে, আবার কোথাও শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (AC) সারিয়ে নতুন সরকারের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে নয়া সচিবালয়
বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিং নিয়েও প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা দফায় দফায় পরিদর্শন করছেন সেখানে। শোনা যাচ্ছে, এখানেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় তৈরি করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো বিধানসভাতেই মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষের সামনের করিডরেও বসানো হয়েছে কড়া প্রহরা।
সাংবিধানিক পদক্ষেপ রাজ্যপালের
এদিকে, জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের সংবিধান মেনে আগের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২(খ) উপ-দফা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও জারি করেছেন।
আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরই নতুন সরকারের হাত ধরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বাংলায়। এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে রাজ্যবাসী।