রাজ্যজুড়ে তোলপাড়! শপথের আগেই অনুপ্রবেশকারী নিয়ে ঢাকাকে কড়া চিঠি দিল্লির, এবার কি বড় অ্যাকশন?

বাংলায় রাজনীতির মহাবদল। দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে এখন বিজেপি। আগামী শনিবারই নয়া সরকার শপথ নিতে চলেছে, যার মেগা প্রস্তুতি ইতিমধ্য়েই তুঙ্গে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। কিন্তু সরকার গঠনের আবহে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন— তবে কি এবার শুরু হবে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করার প্রক্রিয়া? ভোটপ্রচারে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই ‘পুশ-ব্যাক’ নীতি নিয়েই এবার ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল সাউথ ব্লক।
ঢাকাকে দিল্লির কড়া বার্তা: সহযোগিতা চাই
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারতে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবেই। দিল্লি জানিয়েছে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি আইন মেনেই হবে, তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ২ হাজার ৮৬০টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আবেদন বাংলাদেশের কাছে ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে অনেক আবেদন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে। দিল্লির দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের ফেরানোর কাজ নির্বিঘ্ন করতে ঢাকাকে দ্রুত এই নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও সংশয়
এদিকে, বাংলায় পদ্ম ফুরোতেই উদ্বেগের ছায়া প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে যেন জোর করে কাউকে বাংলাদেশে না পাঠানো হয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভারত ‘পুশ-ব্যাক’ শুরু করলে ঢাকাও কড়া ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সেই মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, অবৈধ নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো একটি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার অংশ।
তিস্তা জল চুক্তি: নতুন আশার আলো?
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা জল বণ্টন চুক্তি নিয়েও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান শাসক দল বিএনপি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণেই এই চুক্তি আটকে ছিল। বিএনপি-র তথ্য সচিব আজ়িজুল বারি হেলাল সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন বাধার পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন রাজ্যেও বিজেপি আসায় মোদী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তিস্তা জট কাটবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
সব মিলিয়ে, কলকাতায় নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের আগেই দিল্লি-ঢাকা কূটনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। একদিকে অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে কড়া মনোভাব, অন্যদিকে তিস্তার জল নিয়ে আশার কথা— আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।