স্ত্রীকে সন্দেহ করাই কাল! মাঝরাতে শ্বশুরবাড়িতে হানা দিয়ে দুই শ্যালিকাকে গুলিতে ঝাঁঝরা করল বাউন্সার

পারিবারিক অশান্তি ও সন্দেহের চরম পরিণতি। স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদের জেরে মাঝরাতে শ্বশুরবাড়িতে হানা দিয়ে দুই শ্যালিকাকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের পান্দ্রি থানার অন্তর্গত মোওয়া এলাকায় এই হাড়হিম করা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত যুবক জিতেন্দ্র ভার্মা ওরফে জিতুকে ইতিমধেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি লাইসেন্স করা পিস্তল ও কার্তুজ।
সন্দেহের বাতাবরণ ও চরম অশান্তি
পেশায় বাউন্সার জিতেন্দ্র ভার্মা দীর্ঘদিন ধরেই তার স্ত্রী খিলেশ্বরীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করত। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্যদিন অশান্তি লেগেই থাকত। গত মঙ্গলবার বিবাদের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে খিলেশ্বরী তাঁর দেড় বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যান। স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে ওই দিন রাত প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ সটান শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজির হয় উন্মত্ত জিতেন্দ্র।
এক ঘণ্টার ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড
শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছেই জিতেন্দ্র তার মেয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য জেদ করতে শুরু করে। সেই সময় তার ২৬ বছর বয়সী শ্যালিকা গীতাঞ্জলি বাইরে এসে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। গীতাঞ্জলি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, যা কথা হওয়ার তা পরের দিন সকালে পরিবারের উপস্থিতিতে হবে। কিন্তু এতেই মেজাজ হারায় ওই বাউন্সার। পকেট থেকে লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে সরাসরি গীতাঞ্জলির কপাল লক্ষ্য করে গুলি চালায় সে। রক্তান্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তরুণী।
গুলির শব্দ শুনে জিতেন্দ্রর মেজ শ্যালিকা দুর্গেশ্বরী (২৪) ছাদ থেকে নিচে নেমে এলে তাকেও রেহাই দেয়নি ঘাতক জামাই। দুর্গেশ্বরীর পিঠ লক্ষ্য করে গুলি চালায় জিতেন্দ্র। গুলির আওয়াজে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে দুই বোনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা গীতাঞ্জলিকে মৃত ঘোষণা করেন। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় দুর্গেশ্বরীরও।
পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ঘাতক
ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছিল অভিযুক্ত জিতেন্দ্র। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে ধরে ফেলা হয়। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, জিতেন্দ্রর উগ্র মেজাজ এবং স্ত্রীকে নিয়ে সারাক্ষণ সন্দেহ করার বাতিকের কথা আগে থেকেই সবার জানা ছিল। কিন্তু সেই অশান্তি যে খুনের পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা কেউ কল্পনা করতে পারেননি।
রায়পুর পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পারিবারিক বিবাদ এবং স্ত্রীর ওপর সন্দেহের জেরে ঘটা অপরাধ বলেই মনে হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মামলাটির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত চালানো হচ্ছে।”
রাজধানী শহরের জনবহুল এলাকায় এই জোড়া খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।