বুলেটের শব্দে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, বাইক জব্দ করতেই পুলিশকে ঘিরে ধরল ১০০ জনের উন্মত্ত জনতা

রাজস্থানের আলওয়ার জেলার গোবিন্দগড় থানা এলাকা এখন কার্যত এক অশান্ত রণক্ষেত্র। গভীর রাতে বুলেট বাইকে চড়ে বিপজ্জনক স্টান্ট দেখানো এবং সাইলেন্সার থেকে বিকট শব্দ করে বাজি ফোটানোর প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওপর চড়াও হল একদল উন্মত্ত যুবক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, প্রায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষের একটি দল থানা ঘেরাও করে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত: বুলেটের দাপট ও গ্রামবাসীর ক্ষোভ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল গভীর রাতে দুই যুবক এলাকায় বুলেট বাইক নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। বাইকের সাইলেন্সার থেকে বিকট শব্দ করে বাজি ফোটানো ও বিপজ্জনক স্টান্ট দেখানোর ফলে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। বারবার নিষেধ করার পরেও কাজ না হওয়ায় তারা শেষমেশ পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পেয়ে গোবিন্দগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাইকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

থানা আক্রমণ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপই কাল হয়ে দাঁড়ায়। বাইক জব্দের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে শতাধিক মানুষ থানা চত্বরে জড়ো হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জনতা হিংস্র হয়ে ওঠে এবং থানাকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। লাঠি ও রড নিয়ে পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ সুপার সুধীর সিং জানিয়েছেন, হামলায় স্টেশন অফিসার ধরম সিং সহ একাধিক পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। থানার জানলার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং পুলিশের একটি গাড়িকেও ভাঙচুর করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বাঁচতে পুলিশ কর্মীরা দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়াচ্ছেন।

আতঙ্ক ও ২০১৭-র স্মৃতি
থানার ভেতরের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাঙা কাচ এবং রক্তের দাগ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে আক্রমণের তীব্রতা কতটা ভয়াবহ ছিল। এই ঘটনাটি ২০১৭ সালের বেহরোর থানার সেই কুখ্যাত হামলার স্মৃতি উসকে দিয়েছে, যেখানে গ্যাংস্টার পাপলাকে মুক্ত করতে তার সঙ্গীরা থানায় গুলি চালিয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়েই ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সরকারি কাজে বাধা দান এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনায় কোনো আপোষ করা হবে না। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং ইতিমত্যে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।