রেইকি করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ঝাঁঝরা! শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন চালকও

বুধবার রাতের অন্ধকারে রক্তাক্ত মধ্যমগ্রাম। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যজনক খুনে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে এখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি।

আঘাতের গভীরতা ও চালকের অবস্থা
সূত্রের খবর, এই হামলায় চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু হলেও তাঁর গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকদের মতে, বুদ্ধদেবের শরীরে একাধিক গুলি লেগেছে। ডান হাত, লিভার এবং ফুসফুস কার্যত ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। যদিও শরীর থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়েছে, তবুও এখনই তাঁকে বিপদমুক্ত বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা। জ্ঞান ফিরলে তাঁর বয়ান রেকর্ড করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

কী বলছেন শুভেন্দু অধিকারী?
এই ঘটনাকে ‘ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত খুন’ বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে ভুয়ো নম্বর প্লেটের গাড়ি নিয়ে এলাকা রেইকি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। আমরা চাই না এই ঘটনা ‘অভয়া’ কাণ্ডের মতো বিচারহীন হয়ে থাকুক। এর পেছনে রাজনৈতিক যোগ থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।” তবে দলীয় কর্মীদের আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সন্তান হারিয়ে কী বললেন মা?
চন্দ্রনাথ বরাবরই পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করতে ভালোবাসতেন। ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রাম—শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক নির্বাচনী লড়াইয়ের নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনি। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন মা হাসিরানি রথ। কান্নাভেজা চোখে তিনি বলেন, “আমি চাই দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক। তবে আমি নিজে মা হয়ে অন্য কারও সন্তানের ফাঁসি চাইব না। ওদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হোক, এটাই আমার দাবি।” কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার তত্ত্বও তিনি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি
রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ঘাতকদের গতিবিধি ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ এখনই চূড়ান্ত কিছু না বললেও, সুপরিকল্পিত এই হামলার কিনারা করতে সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, চন্দ্রনাথের পরিবারের সব দায়িত্ব দল গ্রহণ করবে। এখন দেখার, পুলিশের তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।