শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ চন্দ্রনাথ খুনে নয়া মোড়! দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে পুলিশের হাতে এল কোন গোপন তথ্য?

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার উঠে এল একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের নেপথ্যে ছিল গভীর কোনো ষড়যন্ত্র এবং অত্যন্ত পেশাদারিত্বের ছাপ।
অপারেশনে ‘চুরি করা’ গাড়ি
তদন্তে জানা গিয়েছে, চন্দ্রনাথের পথ আটকাতে দুষ্কৃতীরা যে চার চাকা গাড়িটি ব্যবহার করেছিল, সেটি ছিল আদতে একটি চুরি যাওয়া গাড়ি। অপরাধ করার আগে নিজেদের পরিচয় এবং অবস্থান গোপন রাখতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করছে পুলিশ। প্রথমে এই চুরি করা গাড়িটি দিয়ে চন্দ্রনাথের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং তাঁকে মাঝপথে আটকানো হয়।
পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চার চাকা গাড়িটি দিয়ে চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকানোর পর পিছন থেকে বাইকে করে অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। খুব কাছ থেকে বা ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
তদন্তে ফরেনসিক ও নমুনা সংগ্রহ
ঠিক কী ধরনের মারণাস্ত্র খুনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে মৃতদেহের ক্ষতচিহ্ন থেকে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থল এবং দুষ্কৃতীদের ফেলে যাওয়া গাড়ি থেকেও আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পুরো অপারেশনটি কোনো ভাড়াটে শ্যুটারদের কাজ কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন উত্তর ২৪ পরগনার তদন্তকারী আধিকারিকরা।
এই হত্যাকাণ্ডের ফলে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তেমনই পুলিশের হাতে আসা এই নতুন তথ্যগুলো খুনিদের নাগাল পেতে কতটা সাহায্য করে, এখন সেটাই দেখার।