বেতন সংশোধনে বড় বিস্ফোরণ! কেন্দ্র কি মানবে ৫ বছরের ফর্মুলা? কোটি সরকারি কর্মীর জন্য খুশির খবর

অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। এরই মাঝে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর এক নয়া প্রস্তাব কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় মহলেই ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা ১০ বছরের পুরনো প্রথা ভেঙে এবার প্রতি ৫ বছর অন্তর বেতন সংশোধনের দাবি তুলছেন কর্মচারীরা। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতেই এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির বৈঠকে কী ঘটল?
গত ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অষ্টম বেতন কমিশনের পরামর্শ সভায় এই দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়। ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেকানিজম (NC-JCM) এবং বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, পেনশন সংস্কার, ভাতা এবং পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সেখানেই প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, বেতন কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য কর্মচারীদের আর ১০ বছর অপেক্ষা করা উচিত নয়।

ব্যাঙ্কিং ও বেসরকারি ক্ষেত্রের যুক্তি:
এনসি-জেসিএম সচিব শিব গোপাল মিশ্র এই দাবির স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ১০ বছরের সময়সীমা পুরোপুরি সেকেলে। ব্যাঙ্কিং সেক্টরে ইতিমধ্যেই প্রতি ৫ বছর অন্তর বেতন সংশোধন হয়। এমনকি বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রতি ৩ বছর অন্তর কর্মীদের বেতন পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা তাঁদের বেতনের প্রকৃত মূল্য কমিয়ে দিচ্ছে।” তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে ১০ বছর আগের নির্ধারিত বেতন বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পায়।

কোষাগারে টান পড়ার আশঙ্কা:
তবে এই পদক্ষেপে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। নীতি আয়োগের প্রাক্তন সদস্য রাহুল আহলুওয়ালিয়া সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে রাজ্যগুলোর রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশই ব্যয় হয় বেতন ও পেনশনে। যদি ৫ বছর অন্তর বেতন কমিশন গঠন করা হয়, তবে সরকারি কোষাগারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হবে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর বাজেটে কোপ পড়তে পারে।

কোন পথে সমাধান?
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সরাসরি ৫ বছরের চক্র মেনে নেওয়ার পরিবর্তে একটি ‘মধ্যপন্থা’ অবলম্বন করা যেতে পারে। প্রতি ৫ বছর অন্তর পূর্ণাঙ্গ বেতন পর্যালোচনা না করে, মুদ্রাস্ফীতির ওপর ভিত্তি করে মহার্ঘ ভাতা (DA) বা অন্যান্য ভাতার কাঠামো আরও ঘন ঘন পর্যালোচনা করা যেতে পারে। এতে যেমন কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা বজায় থাকবে, তেমনই সরকারি বাজেটেও ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

এখন দেখার, কর্মচারী সংগঠনগুলোর এই মেগা প্রস্তাব অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে জায়গা পায় কি না। কেন্দ্র এই দাবিতে সবুজ সংকেত দিলে তা হবে ভারতের সরকারি পরিষেবার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।