গুগলের প্রথম বিনিয়োগকারীর ভরসা এখন ভারতের স্টার্টআপে! ১.১ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ বিপ্লবে ইতিহাস গড়ল স্কাইরুট

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা করল হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক স্টার্টআপ ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’ (Skyroot Aerospace)। নতুন দফায় ৬০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে কোম্পানিটি এখন ভারতের প্রথম ‘স্পেস-টেক ইউনিকর্ন’-এর তকমা পেল। বর্তমানে এই স্টার্টআপের বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১.১ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল বিনিয়োগের নেতৃত্বে রয়েছেন গুগলের অন্যতম প্রাথমিক বিনিয়োগকারী তথা আমেরিকান বিলিয়নিয়ার রাম শ্রীরাম।

তহবিলের জোয়ার ও বিশ্বমানের বিনিয়োগকারী:
গুগলের ভাগ্য বদলে দেওয়া রাম শ্রীরামের পাশাপাশি স্কাইরুটের এই যাত্রায় সামিল হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ‘ব্ল্যাকরক’ (BlackRock)। এছাড়াও সিঙ্গাপুরের জিআইসি (GIC), গ্রিনকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, আর্কাম ভেঞ্চারস এবং সান ফার্মার প্রোমোটারদের ফ্যামিলি অফিসও এই ফান্ডিং রাউন্ডে অংশ নিয়েছে। সব মিলিয়ে স্কাইরুট এখন পর্যন্ত ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।

লক্ষ্য এবার ‘বিক্রম-১’:
এই নতুন মূলধন মূলত ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) অরবিটাল লঞ্চ ভেহিকলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। কোম্পানিটি তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম এবং প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎক্ষেপণ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ‘বিক্রম-এস’ রকেট উৎক্ষেপণ করে প্রথম ভারতীয় বেসরকারি সংস্থা হিসেবে মহাকাশে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল স্কাইরুট। এখন তাদের লক্ষ্য আরও বড়— ছোট স্যাটেলাইটের বিশ্ববাজারে এলন মাস্কের ‘স্পেস-এক্স’ (SpaceX) বা ‘রকেট ল্যাব’-এর মতো বিশ্ববিখ্যাত সংস্থাগুলোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো।

শ্রীহরিকোটায় কাউন্টডাউন শুরু:
স্কাইরুটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পবন কুমার চন্দনা জানিয়েছেন, বিক্রম-১ রকেটের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রকেটের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার শ্রীহরিকোটায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসেই মহাকাশে পাড়ি দেবে বিক্রম-১।

মিশনের খুঁটিনাটি:
প্রায় ১৫ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশনে বিক্রম-১ রকেটটি ৪০০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (LEO) পেলোড পৌঁছে দেবে। এই অভিযানে ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন গ্রাহকদের ভূ-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ এবং পরীক্ষামূলক মডিউল মহাকাশে পাঠানো হবে। ভারতের বেসরকারি মহাকাশ বিজ্ঞানের এই আকাশছোঁয়া সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে।