“বিজেপি আমায় খারাপ বলেনি!” বঙ্গে গেরুয়া ঝড় উঠতেই বোলবদল বনির, তৃণমূলে কি তবে ইতি?

রাজনীতির রং বদলের সঙ্গে সঙ্গেই কি বদলে যাচ্ছে টলিউড অভিনেতাদের আনুগত্য? বাংলায় ক্ষমতার পটপরিবর্তন হতেই ফের চর্চায় অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত। এক সময় ঘাসফুল শিবিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, বঙ্গে বিজেপির বিপুল জয়ের পর বনির সাম্প্রতিক মন্তব্যে এবার ‘ঘরওয়াপসি’-র স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
“আমার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করেনি ওরা”
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বনি। তবে এক বছর পরেই দলের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ইস্তফা দেন তিনি। এরপর সরাসরি তৃণমূলে যোগ না দিলেও মমতার দলের হয়ে ভোট প্রচার থেকে শুরু করে সরকারি অনুষ্ঠান— সর্বত্রই দেখা যেত তাঁকে। কিন্তু ২০২৬-এর ফলাফল আসতেই বনির গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি অফিসিয়ালি বিজেপি জয়েন করেছিলাম, আবার নিয়ম মেনেই ছেড়েছিলাম। তবে একটা বছর ওদের সঙ্গে থাকাকালীন ওরা কিন্তু কখনও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি।”
কেন যেতেন তৃণমূলের মঞ্চে?
তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় প্রচার করা নিয়ে বনির সাফাই বেশ চমকপ্রদ। তাঁর কথায়, “তখন যাঁরা রুলিং পার্টি ছিল, তাঁরা আমন্ত্রণ জানালে তো আর না বলা যায় না। তাই গিয়েছি। কিন্তু মানুষ যদি সেই দলকে না চায় বা তাঁরা হেরে যান, তবে তো কিছু করার নেই।” এর পাশাপাশি তিনি যোগ করেন, “এখন যে নতুন সরকার আসবে, তাঁদের মতাদর্শ যদি আমার সঙ্গে মেলে, তবে নিশ্চয়ই তাঁদের সঙ্গেও থাকব।”
‘ব্যান’ হওয়ার ভয় কি তাড়া করছে?
ইম্পা (EIMPA) সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর ছেলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যখন তোলপাড় টলিউড, তখনই উঠে আসছে ‘ব্যান’ হওয়ার প্রসঙ্গ। নতুন সরকার কি তাঁকে টলিউডে কাজ করতে বাধা দেবে? বনির জবাব অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, “নতুন সরকার যদি আগের সরকারের মতোই ‘ব্যান’ করার রাজনীতি করে, তবে তফাতটা কী রইল! ওসব ভয় পাই না। মানুষ দেখে নেবে বদল এল কি না।”
এক নজরে বনির ক্যারিয়ার
২০১৪ সালে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘বরবাদ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ বনির। এরপর ‘পারব না আমি ছাড়তে তোকে’ বা ‘জিও পাগলা’-র মতো রোমান্টিক কমেডি দিয়ে বাণিজ্যিক ছবির দর্শকদের মন জয় করেন তিনি। তবে শুধু কমার্শিয়াল ছবি নয়, ‘জতুগৃহ’ বা ‘শুভ বিজয়া’-র মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন অভিনেতা।
রাজনীতির হাওয়া বর্তমানে যেদিকে বইছে, তাতে বনি সেনগুপ্ত কি ফের গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেবেন? না কি ‘মতাদর্শ’ মেলাবার দোহাই দিয়ে আপাতত অপেক্ষার পথ বেছে নেবেন, সেটাই এখন দেখার।