সমুদ্রের নিচে ‘কামিকাজে ডলফিন’! মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ওড়াতে ইরান কি নামাচ্ছে আত্মঘাতী বাহিনী?

মধ্যপ্রাচ্যের রণতপ্ত আকাশে এবার এক অদ্ভুত ও রোমহর্ষক যুদ্ধের মেঘ। এতদিন ড্রোন বা মিসাইল হামলার কথা শোনা গেলেও, এবার সমুদ্রের অতল থেকে ঘাতক ডলফিন দিয়ে হামলার আশঙ্কায় তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে ইরান কি ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ডলফিন ব্যবহার করতে চলেছে? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন তুঙ্গে জল্পনা।

মার্কিন সচিবের রহস্যজনক বয়ান
সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে। প্রশ্ন ছিল— ইরান কি সত্যিই ডলফিন বাহিনীকে যুদ্ধে নামাচ্ছে? জবাবে হেগসেথ কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, এই মুহূর্তে ইরানের কাছে মোতায়েন করার মতো কোনো ডলফিন নেই। কিন্তু প্রশ্ন যখন নিজের দেশের দিকে ঘোরে, তখন তিনি বেশ রহস্যজনক উত্তর দেন। হেগসেথ বলেন, “আমেরিকার কাছে ‘কামিকাজে ডলফিন’ আছে কি না, তা আমি নিশ্চিত করব না, আবার অস্বীকারও করব না।” ওয়াশিংটনের এই রহস্যময় অবস্থান নিয়ে এখন নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিস্ফোরক দাবি
গত ৩০ এপ্রিল ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানি কর্মকর্তারা ‘মাইন বহনকারী ডলফিন’ ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার সম্ভাবনার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এই ডলফিনগুলো আত্মঘাতী কায়দায় মাইন নিয়ে শত্রু জাহাজে আছড়ে পড়বে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এর কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

ডলফিন যুদ্ধ: ইতিহাস ও বর্তমান
সামরিক উদ্দেশ্যে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর ব্যবহার কোনো নতুন বিষয় নয়। মার্কিন নৌবাহিনীর কয়েক দশকের পুরনো একটি ‘মেরিন ম্যামল প্রোগ্রাম’ রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া সি-লায়ন এবং বটলনোজ ডলফিনদের জলের নিচে মাইন খুঁজে বের করার প্রশিক্ষণ দেয় তারা। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বের সর্বাধুনিক শব্দতরঙ্গ প্রযুক্তির চেয়েও ডলফিনের প্রাকৃতিক ক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী। এমনকি আধুনিক আন্ডারওয়াটার ড্রোনও ডলফিনের কাছে নস্যি। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছে, তাদের ডলফিনগুলো মাইন শনাক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হয়, আত্মঘাতী হামলার জন্য নয়।

অন্যদিকে, রাশিয়াও তাদের বন্দর পাহারা দিতে ডলফিন ব্যবহারের নজির স্থাপন করেছে। ২০০০ সালে ইরান বেশ কিছু ডলফিন কিনেছিল বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেই ডলফিনগুলো এখন বেঁচে থাকার কথা নয় বা সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।

উদ্বেগের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালী
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে এই ‘ডলফিন যুদ্ধ’-এর প্রসঙ্গ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অত্যাধুনিক মাইন শনাক্ত করার ক্ষমতা সম্পন্ন এই প্রাণীরা যদি সত্যিই বিধ্বংসী মাইন বহন করে জাহাজ ধ্বংস করতে শুরু করে, তবে সমুদ্রের নিচে যুদ্ধের সংজ্ঞাটাই বদলে যাবে। আপাতত ডলফিনদের এই ‘কামিকাজে’ মিশন সত্যি না কি নিছকই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না।