পুরনো চিংড়ির মালাইকারি ভুলে যান! রাজকীয় স্বাদে তৈরি করুন গলদা চিংড়ির রোস্ট, রইল গোপন রেসিপি

মাছে ভাতে বাঙালি—এই প্রবাদের সার্থকতা বোধহয় চিংড়ির কোনো পদের সামনে বসলেই সবথেকে বেশি বোঝা যায়। আর সেই মাছ যদি হয় গলদা চিংড়ি, তবে তো ভোজের আসর জমার জন্য আর অন্য কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণত বাড়িতে অতিথি এলে আমরা চিকেন বা মাটন রোস্টের দিকেই বেশি ঝুঁকি। কিন্তু এবার প্রথা ভেঙে পাতে নিয়ে আসুন গলদা চিংড়ির রোস্ট। খুব সামান্য উপকরণ আর সাধারণ পদ্ধতিতে কীভাবে এই রাজকীয় পদটি তৈরি করবেন, দেখে নিন তার খুঁটিনাটি।

উপকরণ:
পেশাদার রাঁধুনিদের মতো স্বাদ পেতে আপনার হাতের কাছে এই জিনিসগুলো থাকা চাই:

৬টি বড় মাপের গলদা চিংড়ি

আধ কাপ পেঁয়াজ বাটা ও ১ কাপ বেরেস্তা

আদা-রসুন ও কাঁচালঙ্কা বাটা (পরিমাণমতো)

৩ টেবিল চামচ নারকেল বাটা (বা নারকেলের দুধ)

আধ কাপ জল ঝরানো টক দই

গোলমরিচ গুঁড়ো ও গোটা গরম মশলা

সাদা তেল, ঘি এবং স্বাদমতো নুন

প্রস্তুত প্রণালী:
১. প্রাথমিক ধাপ: প্রথমে চিংড়িগুলো ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। এরপর এতে সামান্য নুন, হলুদ ও লেবুর রস মাখিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ম্যারিনেট করে রাখুন। লেবুর রস ব্যবহারের ফলে চিংড়ির আষ্টে গন্ধ কেটে যাবে।

২. মশলা কষানো: কড়াইতে তেল ও ঘি গরম করে তাতে গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ বাটা দিয়ে হালকা ভাজুন। পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে তাতে আদা-রসুন বাটা ও কাঁচালঙ্কা বাটা দিয়ে ভালো করে কষাতে থাকুন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে তাতে পোস্ত বাটা (ঐচ্ছিক), টক দই এবং স্বাদমতো নুন ও গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে দিন।

৩. চিংড়ি রান্না: অন্য একটি পাত্রে ম্যারিনেট করা চিংড়িগুলো হালকা লালচে করে ভেজে নিন। খেয়াল রাখবেন, খুব বেশি ভাজলে চিংড়ি শক্ত হয়ে যেতে পারে। এবার কষানো মশলার গ্রেভিতে ভাজা মাছগুলো দিয়ে দিন। শেষে নারকেল বাটা বা দুধ যোগ করে মাঝারি আঁচে রান্না করুন।

৪. ফিনিশিং টাচ: গ্রেভি ঘন হয়ে এলে ওপর থেকে ভাজা পেঁয়াজ বা বেরেস্তা এবং গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। কিছুক্ষণ ঢাকা দিয়ে রেখে নামিয়ে নিন।

পরিবেশন:
তৈরি হয়ে গেল আপনার স্পেশাল গলদা চিংড়ির রোস্ট। এটি গরম ভাত, পোলাও বা ফ্রাইড রাইসের সঙ্গে পরিবেশন করুন। অতিথিদের প্রশংসার পাশাপাশি আপনার রান্নার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে। চিকেনের স্বাদকেও হার মানাবে এই অভিনব রেসিপি।