রাত জেগে ফোন ঘাঁটা কি আপনার নেশা? অজান্তেই মস্তিস্কের এই অংশটি অকেজো হয়ে যাচ্ছে না তো? জেনে নিন সতর্কবার্তা!

আজকের এই দ্রুতগতির জীবনে ‘হাসল কালচার’ বা রাত জেগে কাজ করা কিংবা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখা অনেকের কাছেই এক ধরণের বিলাসিতা বা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই শখের রাত জাগা আসলে আপনার শরীরের ভেতরে এক একটি মৃত্যুবান তৈরি করছে? সাত ঘণ্টার কম ঘুম কেবল চোখের নীচে কালি বা ডার্ক সার্কেলই ফেলে না, বরং আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকেও তিলে তিলে নষ্ট করে দেয়। শরীর যখন বিশ্রাম পায় না, তখন সে নিভৃতে কিছু সংকেত পাঠাতে শুরু করে। জেনে নিন সেই লাল সংকেতগুলি কী কী:

১. দিনের বেলাতেও কি দুচোখ জুড়ে তন্দ্রা?
অফিসে কাজ করার সময়, গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলাকালীন কিংবা বাসে-ট্রেনে যাতায়াতের পথে যদি আপনি ঘন ঘন হাই তোলেন, তবে বুঝবেন আপনার শরীর বিদ্রোহ করছে। গত রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় শরীর তার অবশিষ্ট শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করে, যার ফলে আপনি সারাদিন নিস্তেজ ও ক্লান্ত বোধ করেন।

২. খিটখিটে মেজাজ ও আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারানো
অল্পতেই কি রাগ হচ্ছে? সামান্য তুচ্ছ বিষয়ে প্রিয়জন বা সহকর্মীর ওপর চিৎকার করছেন? এটি আপনার স্বভাব নয়, এটি ঘুমের অভাব। অপর্যাপ্ত ঘুম সরাসরি মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ (Amygdala) নামক অংশটির ওপর প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্কের এই অংশটি আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুম কম হলে এর ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে আপনি অকারণে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং খিটখিটে মেজাজের শিকার হন।

৩. মনোযোগের অভাব ও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা
চাবি কোথায় রেখেছেন মনে নেই? পরিচিত কারোর নাম হঠাৎ ভুলে যাচ্ছেন? ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক সারাদিনের স্মৃতিগুলিকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখে। কিন্তু ঘুম কম হলে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার এই ক্ষমতা ব্যাহত হয়। এর ফলে কোনো কাজে একাগ্রতা হারানো এবং বিস্মৃতিপ্রবণতা দেখা দেয়।

৪. প্রতিক্রিয়ার ধীরগতি: এটি হতে পারে প্রাণঘাতী
ঘুম কম হলে মস্তিষ্ক কোনো তথ্যে সাড়া দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নেয়। একে বলা হয় ‘স্লো রিঅ্যাকশন টাইম’। গাড়ি চালানোর সময় বা কোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব অনেক সময় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতোই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।