শূন্য থেকে সোজা বিধানসভা! ডোমকলে লাল আবির, তৃণমূলের হেভিওয়েটকে উড়িয়ে কীভাবে ‘জ্যাকপট’ মারলেন রানা?

দীর্ঘ ৫ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে বিধানসভার দরজায় কড়া নাড়ল বামেরা। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর, ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনে ফের খাতা খুলল সিপিএম। মুর্শিদাবাদের ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী হুমায়ুন কবীরকে হারিয়ে জয়ী হলেন সিপিএম-এর মোস্তাফিজুর রহমান রানা। রাজ্যে যখন পালাবদল ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার, ঠিক তখনই ডোমকলের এই জয় বাম শিবিরে নতুন অক্সিজেনের জোগান দিচ্ছে।
কীভাবে কাটল শূন্যের গেরো?
১০৭,৮৮২টি ভোট পেয়ে ১৬,২৯৬ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন রানা। এই জয়ের পর এশিয়ানেট নিউজ বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই জয় কোনো অলৌকিক ম্যাজিক নয়, বরং গত ৫ বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফসল। রানার কথায়, “২০২১-এ পরাজয়ের পর থেকেই আমরা ২০২৬-এর প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। মানুষের সুখে-দুঃখে ৩৬৫ দিন পাশে থাকাটাই ছিল আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”
কেপিসি-র বদলে কেরালা সফর: পরিযায়ী শ্রমিকরাই তুরুপের তাস
রানার জয়ের নেপথ্যে একটি বড় কারণ হলো পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ। তিনি জানান, পার্টির নির্দেশে তিনি নিজে কেরালায় গিয়ে ডোমকলের পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছিলেন। সেই দীর্ঘকালীন জনসংযোগই আজ ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর দাবি, ডোমকলের মানুষ বুঝেছেন যে তৃণমূল জমানার ১৫ বছরের অনুন্নয়ন ঘোচাতে বামপন্থীদের বিকল্প নেই।
হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের নজির ডোমকলে
অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে রানা জানিয়েছেন, এই মেরুকরণের রাজনীতির বাজারেও ডোমকল এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “ডোমকলে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি হলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের ৮৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ আমাকে সমর্থন করেছেন। তৃণমূলের দুর্নীতি, চাকরি চুরি এবং নেতা-মন্ত্রীদের জেলযাত্রার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ সরব হয়েছিলেন।”
বিধানসভায় আগামী লড়াই
নতুন বিধায়কের মতে, “ভাতার চেয়েও মানুষের কাছে বড় দাবি ছিল কর্মসংস্থান। মানুষ তাঁদের ঘরের ছেলেকে কাছে পেতে চেয়েছিল।” বিধানসভার ভেতরে ডোমকলের খেটে খাওয়া মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা তুলে ধরাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। একদিকে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার, অন্যদিকে বিরোধী আসনে থেকে নীতিগত ও আদর্শগত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান রানা।