বিরিয়ানি দোকানের সামনেই খতম শুভেন্দুর ‘ডান হাত’! ৩ ঘণ্টা ওৎ পেতে থেকে কীভাবে চলল অপারেশন? জানলে শিউরে উঠবেন!

বাংলায় ভোট মিটলেও রক্তের হোলি খেলা যেন থামছেই না। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করল একদল পেশাদার ঘাতক। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত, বাড়ির ঠিক ঢিল ছোড়া দূরত্বে এক বিরিয়ানি দোকানের সামনেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক ঘটনা।
বিকেল থেকে ওৎ পেতে ছিল খুনিরা!
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই হত্যাকাণ্ড কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নয়, বরং এর পেছনে ছিল নিপুণ নীলকশা। সিসিটিভি ফুটেজ বলছে, বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিট নাগাদ দোলতলার সাহারা ব্রিজের কাছে একটি সন্দেহভাজন চারচাকা গাড়ি দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ, বিকেল থেকেই ঘাতকরা চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল এবং সুযোগের অপেক্ষায় ওৎ পেতে ছিল।
মাঝরাস্তায় হাড়হিম করা ‘অপারেশন’
জানা গিয়েছে, বুধবার দিনভর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রনাথ। কাজ সেরে রাতে স্করপিও গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। মধ্যমগ্রামের কাছে একটি বিরিয়ানি দোকানের সামনে গাড়িটি থামতেই শুরু হয় তাণ্ডব। একটি চারচাকা গাড়ি থেকে নেমে দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথের গাড়ির একদম পাশে এসে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ির জানলা দিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়।
৩টি বুলেট ও রক্তাক্ত চালক
পুলিশ সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথের শরীরে অন্তত তিনটি গুলি লেগেছে। লক্ষ্যভেদ এতটাই নিখুঁত ছিল যে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। কেবল চন্দ্রনাথই নন, দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলিতে মারাত্মক জখম হয়েছেন গাড়ির চালকও। খুনের পর আগে থেকে তৈরি থাকা বাইকে চড়ে চম্পট দেয় আততায়ীরা। এই ঘটনায় তিন থেকে চারজন প্রফেশনাল কিলার জড়িত বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
নির্বাচন পরবর্তী এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে এলাকা। শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই কর্মীর মৃত্যুতে স্বভাবতই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। পুলিশ ঘাতক গাড়ি ও বাইকের সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে।