নবান্নে আর চলবে না পুরোনো ‘দাদাগিরি’! সরকার গড়ার আগেই আলাপন-অভিরূপদের বিদায় ঘণ্টা বাজাল নতুন প্রশাসন?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই নবান্নে (Nabanna) শুরু হয়ে গেল প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণ। নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি, তার আগেই মঙ্গলবার রাত থেকে নবান্নের অলিন্দে কার্যত কম্পন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতেই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে ব্যাপক রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার নবান্ন থেকে কড়া নির্দেশ জারি হলো— অবসরের পর যাঁরা ‘পুনর্নিয়োগ’ (Extension) পেয়েছিলেন, আপাতত তাঁদের অফিসে আসা বন্ধ।

বিজেপি আসতেই ‘অ্যাকশন’ শুরু!
নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবার সকাল থেকেই এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লোক ভবনে। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা সব দপ্তরের সচিবদের মৌখিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, অবসরের পর চুক্তিভিত্তিক বা এক্সটেনশনে থাকা কোনও আধিকারিক যেন আপাতত অফিসে না আসেন। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশিকা কার্যকর থাকবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং পুরোনো আমলের প্রভাব কাটাতে বিজেপির অলিখিত সবুজ সংকেতেই এই বড় পদক্ষেপ।

ইস্তফার হিড়িক: আলাপন থেকে মনোজ পন্থ
নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর মঙ্গলবার বিকেলেই প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ‘হেভিওয়েট’ নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে:

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রাক্তন মুখ্যসচিব তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী: মুখ্যমন্ত্রীর অন্য এক উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন মুখ্যসচিবও নিজের দায়িত্ব ছেড়েছেন।

মনোজ পন্থ: বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিব পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

তৃণমূল সরকারের সময়ে এই তিন আধিকারিকই ছিলেন নবান্নের আসল নিয়ন্ত্রক। ক্ষমতার পালাবদলের পর নৈতিক কারণ দেখিয়েই তাঁরা সরে দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সরে দাঁড়ালেন অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারও
প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি কোপ পড়েছে বিভিন্ন নিগমের ওপরও। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার তাঁর সমস্ত সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম (WBIDC) এবং স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। উল্লেখ্য, ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা ইস্যুতে সরকারি কর্মীদের একাংশের বড় ক্ষোভ ছিল তাঁর ওপর। ২০১৩ সালে চতুর্থ অর্থ কমিশনের নেতৃত্বে থাকার সময় থেকেই তিনি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন।

রাজ্যের এই প্রশাসনিক রদবদল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার আগেই নবান্নের চালচিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে। বাম জমানার অবসরের সময়ও রাইটার্স বিল্ডিংয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। এবারও সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।