গ্রাহকদের ১ টিবি তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস? চাঞ্চল্যকর অভিযোগের মুখে পড়ে মুখ খুলল ব্যাঙ্ক অফ বরোদা!

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (Bank of Baroda বা BoB)-র বিপুল পরিমাণ গ্রাহকের সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ ঘিরে সম্প্রতি তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বিতর্কের জেরে অবশেষে মুখ খুলল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের মূল কোর ব্যাংকিং সিস্টেম সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত রয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত ফরেনসিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
ঠিক কী জানাল ব্যাঙ্ক?
সামাজিক মাধ্যম ‘X’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে Bank of Baroda জানিয়েছে, মূলত এক কর্মীর ই-মেল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ফলেই কিছু তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশ (Unauthorized Access) ঘটেছিল। তবে এর বিন্দুমাত্র নেতিবাচক প্রভাব ব্যাঙ্কের মূল ব্যাংকিং পরিকাঠামোর উপর পড়েনি।
ব্যাঙ্কের স্পষ্ট দাবি, তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী তথ্য নিরাপত্তা (Information Security) ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত শনাক্ত করা হয় এবং তৎক্ষণাৎ প্রয়োজনীয় সমস্ত নিরাপত্তামূলক ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কের তরফে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, কোর ব্যাংকিং সিস্টেমে কোনো ধরনের অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেনি, ফলে গ্রাহকদের ব্যাংকিং পরিষেবা এবং আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত পরিধি এবং ঠিক কী ধরনের তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা জানতে বর্তমানে বিস্তৃত ফরেনসিক তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা মেনেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় রেখে কাজ করছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকদের আস্থা বজায় রাখা এবং তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
ডার্ক ওয়েবে ডেটা ফাঁসের গুঞ্জন
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, Bank of Baroda-র প্রায় ১ টেরাবাইট (1TB) সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এক হ্যাকার দাবি করেছিল যে তার কাছে ব্যাঙ্কের বিপুল পরিমাণ গোপন তথ্য রয়েছে।
ওই সমস্ত দাবিতে আরও বলা হয়েছিল যে, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে সাধারণ সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য, ঋণ সংক্রান্ত গোপন নথি, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারকারীদের তথ্য, এনআরআই (NRI) ও কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ের বিশদ বিবরণ, কাস্টমার সাপোর্টের রেকর্ড, এমনকি বিভিন্ন শাখা ও এটিএম (ATM)-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যও থাকতে পারে। তবে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা এখনও এই সমস্ত জল্পনা ও দাবিগুলির সত্যতা সরাসরি নিশ্চিত করেনি। ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, ফরেনসিক তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই কেবল ঘটনার আসল চিত্রটি প্রকাশ্যে আসবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেই জোর দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাঙ্ক।