মমতার বাড়ির সামনে থেকে সরছে সুরক্ষা! নবান্নে কি তবে ‘বিজেপি জমানার’ কাউন্টডাউন শুরু?

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের মসনদ থেকে ঘাসফুল শিবিরের বিদায় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দুই শতাধিক আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলায় ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই ফলাফলের রেশ পড়তেই মঙ্গলবার সকাল থেকে বদলে গেল কালীঘাটের চেনা ছবিটা।
কালীঘাটে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি উধাও
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ঠিকানা ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। রাজনৈতিক জীবনের উত্থান থেকে দীর্ঘ শাসনকাল—সবেরই সাক্ষী থেকেছে এই পৈতৃক ভিটে। মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই রাস্তার নিরাপত্তা ছিল দুর্ভেদ্য। সাধারণ মানুষের প্রবেশ ছিল নিয়ন্ত্রিত, মেন রোডে বসানো হয়েছিল স্থায়ী গার্ডরেল। কিন্তু ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই আজ দেখা গেল অন্য দৃশ্য। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। যে রাস্তা দিয়ে প্রবেশের জন্য কড়া তল্লাশি চলত, সেই চেনা কড়াকড়ি এখন অতীত।
ভবানীপুরেই মুখ থুবড়ে পড়ল ‘ঘরের মেয়ে’
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক অবশ্যই খোদ মমতার হার। নিজের খাসতালুক বলে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থীর কাছে ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ঘরের কেন্দ্রে এই পরাজয় মমতার রাজনৈতিক কেরিয়ারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। জয়ের পাল্লা বিজেপির দিকে ভারী হতেই তাঁর নামের পাশে ‘প্রাক্তন’ শব্দটির ব্যবহার এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকে গার্ডরেল ও পুলিশি প্রহরার শিথিলতা কি তবে এক যুগের অবসানের ইঙ্গিত? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী রাজনৈতিক চাল কী হবে, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
বিজেপির এই ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরির পর বাংলার প্রশাসনিক রাশ কার হাতে যাচ্ছে এবং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী কোন পথে হাঁটেন—এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। তবে এটুকু নিশ্চিত, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সেই ভিআইপি আভিজাত্য আর আগের মতো থাকছে না।