মমতাকে হারিয়ে ভবানীপুর দখল শুভেন্দুর! নবান্নে গেরুয়া আবির মেখেই অভিষেককে জেল পাঠানোর হুঙ্কার

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে রইল। দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় পর নবান্ন থেকে বিদায় নিল ঘাসফুল শিবির। সারা বাংলায় গেরুয়া ঝড় বইয়ে দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘ক্লাইম্যাক্স’ তৈরি হলো খোদ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে। নিজের খাসতালুকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বড় ব্যবধানে হার মানতে হলো তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

ভবানীপুরে মমতার হার, শুভেন্দুর বাজিমাত

গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩,৯১৭টি ভোট। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলিতে এসেছে ৫৮,৮১২টি ভোট। অর্থাৎ, ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে ‘ঘরের মেয়ে’কে হারিয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, একইসঙ্গে নিজের পুরনো দুর্গ নন্দীগ্রামেও জয় ধরে রেখেছেন তিনি। সেখানে তৃণমূলের পবিত্র করকে ৯,৬৬৫ ভোটে পরাজিত করেছেন রাজ্যের এই দাপুটে নেতা।

“মমতা শেষ, অভিষেকের জায়গা জেলে”

মেগা জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যারা গুন্ডা আর চোর, নতুন বিজেপি সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। রাহুল গান্ধী শেষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শেষ। আগামী নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবও শেষ হয়ে যাবে।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ভাইপো যেখানেই থাকুক না কেন, এত চুরি করেছে যে আগামী দিনে ওকে জেলে ঢোকানোর কাজ করবে এই বিজেপি সরকার।”

হিন্দুত্বের আবেগ ও শহিদদের উৎসর্গ

ভবানীপুর কেন্দ্র কেন তাঁর কাছে বিশেষ ছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু জানান, “এই আসনটি না জিতলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণ হতো না। গোটা হিন্দু সমাজ একজোট হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল খিদিরপুরে ২০ হাজার ভোটে লিড পেয়েছে, বাকি সব জায়গায় আমি জিতেছি।”

নিজের এই জয়কে তিনি উৎসর্গ করেছেন দলের মৃত কর্মীদের। আবেগঘন গলায় শুভেন্দু বলেন, “বাংলায় এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে ৩০০ বিজেপি কর্মীর আত্মবলিদান। হিন্দু শহিদ হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসের মতো যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদেরই এই জয় উৎসর্গ করছি।”

বাংলার রাজনীতিতে নতুন মোড়

ভোটের এই পরিসংখ্যান এবং ভবানীপুরে খোদ মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর হার বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। একদিকে যখন বিজেপির অন্দরে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে তখন তৃণমূলের অন্দরে হারের ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এটুকু পরিষ্কার যে, ২০২৬-এর এই ফলাফল আগামী বহু বছর বাংলার শাসনব্যবস্থা ও জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলবে।