ভারতের বিশাল কারখানা হাতছাড়া করছে চীন! ৫,০০০ কোটি ছাড়ানো মেগা ডিল, ক্রেতার তালিকায় কোন ভারতীয় কোম্পানি?

ভারতের ইলেকট্রনিক্স বাজারে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত। সরকারি কড়াকড়ি এবং স্থানীয়করণের চাপের মুখে পড়ে এবার অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতিতে অবস্থিত নিজেদের ডিসপ্লে ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের বড় অংশীদারিত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিনা জায়ান্ট টিসিএল ইলেকট্রনিক্স (TCL Electronics)। ৫,৭০৮ থেকে ৭,৬১১ কোটি টাকার (৬০০-৮০০ মিলিয়ন ডলার) এই মেগা ডিলে অংশ নিতে পারে ভারতের একাধিক নামী সংস্থা।

বিক্রি হচ্ছে ৫১ শতাংশ অংশীদারিত্ব
সূত্রের খবর, তিরুপতি প্ল্যান্টের ৫১ শতাংশ শেয়ার ভারতীয় সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করার জন্য বর্তমানে আলোচনা চালাচ্ছে টিসিএল। এই চুক্তিতে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। মূলত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমানো এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির সঙ্গে তাল মেলাতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্রেতার দৌড়ে কারা এগিয়ে?
চিন থেকে মুখ ঘুরিয়ে ভারতমুখী হওয়া এই প্ল্যান্ট কিনতে ইতিমধ্যেই আগ্রহ দেখিয়েছে ডিক্সন টেকনোলজিস, অ্যাম্বার এন্টারপ্রাইজেস, সাইর্মা এসজিএস টেকনোলজি এবং উনো মিন্ডা-র মতো সংস্থাগুলো। যদিও ডিক্সন বর্তমানে এইচকেসি-র সঙ্গে অন্য এক যৌথ উদ্যোগে ব্যস্ত, তাই বাকি কোম্পানিগুলোর কাছে এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন এই কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ?
অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতিতে অবস্থিত এই ইউনিটটি ভারতের একমাত্র ‘ওপেন-সেল’ উৎপাদন কেন্দ্র। এখানে টিভি, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং এমনকি অটোমোটিভ ডিসপ্লের প্যানেল তৈরি হয়। টিসিএল ইতিমধ্যেই এই প্ল্যান্টে ১,৮০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। চীনের বাইরে এটিই তাদের সবথেকে বড় ডিসপ্লে কারখানা। বছরে এখান থেকে ৮০ লক্ষ টিভি প্যানেল ও ৩ কোটি মোবাইল ডিসপ্লে তৈরি করা সম্ভব।

পুরোপুরি কি বিদায় নিচ্ছে চীন?
না, বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। জানা গেছে, টিসিএল ৪৯ শতাংশ শেয়ার নিজের কাছেই রাখবে। বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থেকে কারিগরি ও ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখার পরিকল্পনা করছে তারা। সম্প্রতি কনজিউমার ডিউরেবল কোম্পানি ‘হায়ার’ (Haier) ঠিক যে মডেলে ভারতে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, টিসিএল-ও সেই পথেই হাঁটছে।

স্থানীয় উৎপাদনে গতি আনতে এবং চিনা একাধিপত্য কমাতে ভারত সরকারের কড়া নজরদারির মধ্যেই টিসিএল-এর এই ‘অংশীদারিত্ব হস্তান্তর’ ভারতের ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে নতুন বিপ্লব আনতে পারে।