শূন্যে নামল মায়াবতীর ম্যাজিক! বাংলা থেকে দক্ষিণ ভারত—বিএসপি-র শোচনীয় হারে উঠছে বড় প্রশ্ন

ভারতীয় রাজনীতিতে একসময়ের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ বহুজন সমাজ পার্টি (BSP)-র পতন কি তবে অনিবার্য? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অন্তত সেই আশঙ্কাই উস্কে দিল। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং কেরালা—এই তিন রাজ্যেই মায়াবতীর দল কেবল হারেনি, বরং তাদের জনভিত্তি কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। নির্বাচনী পরিসংখ্যান বলছে, তিনটি রাজ্যের একটিতেও ১ শতাংশ ভোটের গণ্ডি পেরোতে পারেনি বিএসপি।

আকাশের ম্যাজিকেও ফিরল না ভাগ্য
দলের সংগঠন মজবুত করতে এবং তরুণ প্রজন্মের নজর কাড়তে আকাশ আনন্দকে সামনে রেখে বড় বাজি খেলেছিলেন মায়াবতী। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জনসভায় আকাশ আনন্দের ভাষণ শুনতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। আকাশ আনন্দের পাশাপাশি তাঁর শ্বশুর অশোক সিদ্ধার্থ এবং প্রবীণ নেতারাও কোমর বেঁধে প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের ফল বেরোতেই দেখা গেল, সেই ভিড় ভোটবাক্সে রূপান্তরিত হয়নি।

পরিসংখ্যানে করুণ দশা
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন রাজ্যেই বিএসপি-র প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ রীতিমতো হতাশাজনক:

পশ্চিমবঙ্গ: মাত্র ০.১৮% ভোট।

তামিলনাড়ু: মাত্র ০.১১% ভোট।

কেরালা: মাত্র ০.১৫% ভোট।

পুরো বাংলায় বিএসপি প্রার্থীরা সব মিলিয়ে পেয়েছেন মাত্র ৫৩,৩৬৯টি ভোট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিএমকে-এআইএডিএমকে বা তৃণমূল-বিজেপির মতো বড় শক্তির মেরুকরণের মাঝে মায়াবতীর দল নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

মায়াবতীর অনুপস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল
গত বিধানসভা নির্বাচনে মায়াবতী নিজে বাংলায় এসে একাধিক সভা করেছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাঁকে প্রচার ময়দানে দেখা যায়নি। দলনেত্রীর এই অনুপস্থিতি কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে বলে মনে করছে দলেরই একাংশ। এছাড়া দলিত-মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক একজোট করার যে কৌশল আকাশ আনন্দ নিয়েছিলেন, তা অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সমন্বয়ের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

দক্ষিণ ভারতেও অধরা সাফল্য
বিহারের গত নির্বাচনে একটি আসন জিতে আশার আলো দেখেছিল বিএসপি। ভেবেছিল সেই হাওয়া দক্ষিণ ভারতেও পৌঁছাবে। কিন্তু তামিলনাড়ুতে যেখানে বিজয়-এর দল ‘টিভিকে’ (TVK) এক নতুন শক্তির উদয় ঘটিয়েছে, সেখানে বিএসপি-র মতো পুরনো দল খাতা খুলতেও ব্যর্থ হলো।

এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএসপি কি পারবে আবার ঘুরে দাঁড়াতে? না কি জাতীয় রাজনীতিতে মায়াবতীর প্রাসঙ্গিকতা এভাবেই ক্রমশ ফিকে হয়ে যাবে? ২০২৬-এর এই ফল দিল্লির অলিন্দে এখন সেই চর্চাই উস্কে দিয়েছে।