দিল্লির রাস্তায় রণক্ষেত্র! বিধায়ক-মন্ত্রীদের নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন অভিযানে ভগবন্ত মান, তুলকালাম কাণ্ড

পাঞ্জাবের রাজনীতি এবার দিল্লির রাজপথে। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নেতৃত্বে গোটা মন্ত্রিসভা এবং বিধায়করা আজ বুধবার রাজধানী দিল্লিতে এসে পৌঁছাতেই পারদ চড়ল রাজনীতির। একদিকে যখন আপ-ত্যাগী বিদ্রোহী সাংসদরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, ঠিক তখনই পালটা প্রতিরোধ গড়তে বিশাল মিছিল নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে রওনা দেন মান। তবে মাঝপথেই পুলিশি বাধার মুখে পড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আপ বিধায়করা।
বোট ক্লাবে ধুন্ধুমার, রাস্তায় বসে বিক্ষোভ
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের। নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীকেই ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পাঞ্জাবের সমস্ত বিধায়ক ও মন্ত্রীরা জেদ ধরেন তাঁরাও ভেতরে যাবেন। বোট ক্লাব চেকপয়েন্টে পুলিশ তাঁদের গতিরোধ করলে শুরু হয় তুলকালাম। রাস্তাতেই ধর্ণায় বসে পড়েন পাঞ্জাবের মন্ত্রী-বিধায়করা। তাঁদের দাবি, এটি কোনো শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি যে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ, সেই বার্তাই দিতে চান তাঁরা।
রাষ্ট্রপতির কাছে কী কী দাবি মানের?
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সঙ্গে করে এনেছেন পাঞ্জাব বিধানসভায় পাস হওয়া ‘আস্থা প্রস্তাব’-এর একটি অনুলিপি। তিনি মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরবেন:
দলত্যাগ বিরোধী আইনে বদল: দল ভাঙানোর রাজনীতি রুখতে কঠোর আইন চান তিনি।
রাইট টু রিকল (প্রত্যাহারের অধিকার): আম আদমি পার্টির টিকিটে জিতে যারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের সাংসদ পদ বাতিলের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফেরানোর দাবি জানাবেন মান।
আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়: মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, “বিজেপিতে গেলেই কি আইনের উর্ধ্বে থাকা যায়? আমি রাষ্ট্রপতিকে সব জানাব।”
বিদ্রোহী সাংসদদের পালটা চাল
এদিকে আম আদমি পার্টির ঘর ভাঙার ক্ষত আরও গভীর হয়েছে। ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জনই (রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক, হরভজন সিং সহ অন্যরা) ইতিমধ্যে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আজ রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী সাংসদরাও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল নিজেদের আদর্শ ও নীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানও ইতিমধ্যে বিজেপিতে তাঁদের যোগদান স্বীকার করে নিয়েছেন, যার ফলে উচ্চকক্ষে আপ-এর সদস্য সংখ্যা কমে মাত্র ৩-এ ঠেকেছে।
পাঞ্জাব বনাম বিজেপি: লড়াই তুঙ্গে
পাঞ্জাবের বিধায়কদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, বিজেপি জনগণের রায়কে অস্বীকার করে জোর করে পাঞ্জাবে ঢোকার চেষ্টা করছে। কিন্তু যতদিন ভগবন্ত মানের সরকার আছে, ততদিন সেই চেষ্টা সফল হবে না। রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে বিধায়কদের এই অবস্থান বিক্ষোভ এবং অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের তৎপরতা—সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে আজ এক টানটান উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এখন দেখার, এই ‘মেগা সংঘাত’-এর পর রাষ্ট্রপতি ভবনের দরজা পাঞ্জাবের বিধায়কদের জন্য খোলে কি না, নাকি রাজধানীর লড়াই আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।